![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে অভিষেকেই রীতিমতো রূপকথা লিখছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। গ্রুপ এইচ-এর প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেওয়ার পর এবার দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষেও ২-২ গোলের নাটকীয় ড্র করেছে দলটি।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় চমক হয়ে ওঠা কেপ ভার্দের এই সাফল্যের কেন্দ্রে রয়েছেন মিডফিল্ডার কেভিন পিনা। উরুগুয়ের বিপক্ষে গোল করে তিনি কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন।
ম্যাচের ২১তম মিনিটে দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে জাল খুঁজে নেন পিনা। উরুগুয়ের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরাকে ফাঁকি দিয়ে করা সেই গোল কেপ ভার্দেকে এগিয়ে দেয় ১-০ ব্যবধানে। গোলের পর মাঠে ও গ্যালারিতে শুরু হয় উচ্ছ্বাসের বন্যা।
মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে এখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। দলটির আত্মবিশ্বাসী ফুটবল এবং লড়াকু মানসিকতা ইতোমধ্যে ফুটবলবিশ্বের নজর কেড়েছে।
কে এই কেভিন পিনা?
কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়ায় জন্ম নেওয়া কেভিন পিনা বর্তমানে রাশিয়ার ক্লাব ক্রাসনোদারের হয়ে খেলেন। পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব অলিভেইরেন্সে। পরে রাশিয়ান ক্লাব ক্রাসনোদারে যোগ দিয়ে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
২০২১ সালের শেষ দিকে প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পান তিনি। ২০২২ সালে লিশটেনস্টাইনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় তার। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত হন এই মিডফিল্ডার।
নাটকীয় ড্রয়ে কেপ ভার্দের লড়াই
পিনার গোলে এগিয়ে গেলেও প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচে ফিরে আসে উরুগুয়ে। ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো এবং আগুস্তিন কানোব্বিওর গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে হাল ছাড়েনি কেপ ভার্দে। উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতাসূচক গোল করেন হেলিও ভারেলা। এরপর দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও আর কোনো গোল হয়নি।
শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের চ্যালেঞ্জ
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামী শনিবার সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। স্পেনের কাছে সৌদি আরবের বড় ব্যবধানে হারের পর আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে কেপ ভার্দে।
এই ম্যাচে জয় পেলে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত হবে আফ্রিকার দলটির। ফলে বিশ্বকাপের অন্যতম রূপকথার গল্প হয়ে ওঠা কেপ ভার্দে এখন ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লেখার অপেক্ষায়।
পাঠকের মন্তব্য