![]()
ইসরায়েলের শাসক দল লিকুদ পার্টির মন্ত্রী আমিচাই চিকলির সাম্প্রতিক মন্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একাধিক রেডিও সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, “আজ হোক বা কাল, সিরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে হবে ইসরায়েলকে।” তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে একটি “কট্টর সুন্নি অক্ষশক্তি” গড়ে উঠছে, যা ইসরায়েলের জন্য বড় নিরাপত্তা হুমকি।
চিকলি সিরিয়ার নতুন প্রশাসনকে ইঙ্গিত করে বলেন, আইএস ও আল-কায়েদার আদর্শে প্রভাবিত কোনো সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিতে সহাবস্থান করতে পারবে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই শক্তির মূল লক্ষ্য জেরুজালেম দখল করা। একই সঙ্গে তিনি পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতারকে নিয়ে গঠিত একটি কথিত “ইসরায়েল-বিরোধী জোট”-এর কথাও উল্লেখ করেন, যেটিকে তিনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক বলে মনে করেন।
তাঁর বক্তব্যে কাতারকে তিনি “জিহাদিদের জনসংযোগ শাখা” বলে অভিহিত করেন এবং পাকিস্তান ও তুরস্ককে ভারতের, গ্রিস ও সাইপ্রাসের মতো ইসরায়েলি মিত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন। বিশেষ করে তুরস্ককে তিনি সবচেয়ে বড় উদ্বেগের দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং দাবি করেন, সিরিয়ায় তুরস্কের প্রভাব ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করছে।
চিকলির এই বক্তব্য এসেছে এমন সময়, যখন তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এর আগে ইসরায়েলের আঞ্চলিক সামরিক নীতিকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন এবং তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন ডানপন্থি নেতা তুরস্ককে “শত্রু রাষ্ট্র” হিসেবে আখ্যা দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব মন্তব্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ক্ষমতার লড়াই ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার প্রতিফলন। সিরিয়া, লেবানন ও বৃহত্তর পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন শক্তির প্রভাব বিস্তারের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
তবে চিকলি একই সঙ্গে বলেছেন, ইসরায়েলের কোনো দেশ দখলের উদ্দেশ্য নেই এবং তিনি সরাসরি যুদ্ধ নয়, বরং স্থিতিশীলতার আশা করেন। তবুও তাঁর বক্তব্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে না দেওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে রয়ে গেছে, যা অঞ্চলের কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
পাঠকের মন্তব্য