![]()
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। সুইস শহর বারগেনস্টক স্কি রিসোর্টে রোববার এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হবে। এর আগে শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে তেহরানের একটি প্রতিনিধিদলও সেখানে পৌঁছায়।
এটি ৬০ দিনের একটি নতুন পারমাণবিক আলোচনার আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং গত এপ্রিলে ইসলামাবাদের সম্মেলনের পর এটি হবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রথম সরাসরি সংলাপ। তবে আলোচনার আগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ ইরান দাবি করেছে যে লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল থানি এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রতিনিধিও আলোচনায় যুক্ত থাকবেন। ভ্যান্স জানিয়েছেন, তিনি সেখানে এক বা দুই দিন অবস্থান করবেন এবং আলোচনাটি কয়েক দিন চলতে পারে।
ভ্যান্সের মতে, এই প্রথম দফার আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ সংলাপের কাঠামো ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা। পরবর্তী পর্যায়ে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা চলবে, যা সুইজারল্যান্ডেই অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে, আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে আলোচনার পর ইরান জাতিসংঘের পরিদর্শকদের তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দিক। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে আটকে থাকা ইরানের কিছু অর্থ, বিশেষ করে কাতারে থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে, যা কেবল মানবিক খাতে ব্যবহার করা যাবে।
তবে লেবাননের পরিস্থিতি এই আলোচনার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয়েই যুদ্ধবিরতির প্রতি প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করলেও অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এ ধরনের বিরতি খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও স্বীকার করা হয়েছে যে এই আঞ্চলিক উত্তেজনা আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে, যদিও ওয়াশিংটন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। সার্বিকভাবে, পারমাণবিক ইস্যু ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি একসঙ্গে যুক্ত হয়ে এই আলোচনাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অনিশ্চিত পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
পাঠকের মন্তব্য