![]()
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো বর্তমান সরকারও দুর্নীতি দমন কমিশন-কে শক্তিশালী করার ব্যাপারে আন্তরিক নয়। সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের দুর্নীতিগ্রস্ত খাতের শীর্ষে রাজনীতিবিদ ও আমলাদের নাম উঠে আসে এবং অতীতে ছাগলকাণ্ড, বালিশ কেলেঙ্কারি, ব্যাংক লুট, অর্থপাচার ও মেগা প্রকল্পভিত্তিক দুর্নীতির মতো নানা ঘটনার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়েছে।
রুমিন ফারহানা বলেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুদককে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের আশা তৈরি হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এখনো আইনে পরিণত না হওয়ায় তিনি সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষ্য, দুদককে দুর্বল রাখার সংস্কৃতি থেকে সরকার বেরিয়ে আসেনি এবং শক্তিশালী দুদক গড়ে উঠলে রাজনীতিবিদ ও আমলাদের জবাবদিহিতা বাড়বে বলেই সরকারগুলো এ বিষয়ে অনাগ্রহী থাকে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুদকের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখার প্রবণতা রয়েছে। অধ্যাদেশে রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের মাধ্যমে নিয়োগের প্রস্তাব থাকলেও সরকার সেটিও বাস্তবায়ন করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার দুদককে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যেই কাজ করছে। তিনি জানান, পূর্বের অধ্যাদেশটি নিয়ে তড়িঘড়ি না এগিয়ে আরও পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যাতে একটি অধিক গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরি করা যায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন দুদক আইন সংসদে উত্থাপিত হলে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও বিতর্কের সুযোগ থাকবে। সংসদ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়ন করা হবে। নতুন আইন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান আইন অনুযায়ী একটি সার্চ কমিটি গঠন করে কমিশনের কার্যক্রম চালু রাখা হবে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
পাঠকের মন্তব্য