![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইসলামী ব্যাংককে আরও ২,৫০০ কোটি টাকার সহায়তা, নতুন পর্ষদ গঠনের আশ্বাস বাংলাদেশ ব্যাংকের
দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির তারল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক আরও ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ সহায়তা প্রদান করেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা কাঠামো শক্তিশালী করতে একটি নিরপেক্ষ ও দক্ষ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি মোহাম্মদ জহির হোসেন।
মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। অতীতের বিভিন্ন সমস্যা ও অনিয়ম পেছনে ফেলে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং গ্রাহকবান্ধব ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
মোহাম্মদ জহির হোসেন জানান, পাঁচ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের জন্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন বোর্ডে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যারা পেশাগতভাবে দক্ষ, নিরপেক্ষ এবং ব্যাংকিং খাতে গ্রহণযোগ্য।
তিনি বলেন, “আমরা চাই ইসলামী ব্যাংক আবারও দেশের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠুক। এজন্য সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে।”
এদিকে ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আলতাফ হুসাইন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের চাপ আগের তুলনায় কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া নতুন ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তার পুরো অর্থ এখনো ব্যবহার করতে হয়নি বলেও জানান তিনি।
তার মতে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। তিনি আমানতকারীদের উদ্দেশে বলেন, আতঙ্কিত হয়ে যারা অর্থ তুলে নিয়েছেন, তারা যেন আবারও ব্যাংকের ওপর আস্থা রাখেন এবং নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যান।
ব্রিফিংয়ে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুককে পুনর্বহালের সম্ভাবনা সম্পর্কেও প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে মোহাম্মদ জহির হোসেন জানান, তিনি ইতোমধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তা পরিচালনা পর্ষদ গ্রহণ করেছে। ফলে তাকে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার কোনো সুযোগ নেই।
ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি তদারকি এবং তারল্য সহায়তা ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপরই ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।