![]()
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অবশেষে একটি শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ‘তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে’ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান প্রথমে এ ঘোষণা দেয়। পরে ওয়াশিংটন ও তেহরানও বিষয়টি নিশ্চিত করে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
রোববার নিজের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের টোল বা অতিরিক্ত ফি ছাড়াই জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধও অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের সব জাহাজ আবার চলাচল শুরু করুক এবং তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক হোক।
এর কিছুক্ষণ পর ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধের তাৎক্ষণিক অবসান ঘটেছে। তিনি জানান, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আগামী দুই মাসের মধ্যে উভয় পক্ষ নতুন করে আলোচনা শুরু করবে।
এর আগে বৈরুতের উপকণ্ঠে ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহর ওপর ইসরাইলের হামলার জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল তেহরান। এতে চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনায় অগ্রগতি হয়। পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা দেন, উভয় পক্ষ লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য তিনি কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের নেতাদের ধন্যবাদ জানান।
পাঠকের মন্তব্য