![]()
তিনি কি ট্র্যাজিক হিরো, নাকি ইনজুরির কাছে বারবার পরাজিত এক দুর্ভাগা জাদুকর—Neymar Jr.কে ঘিরে এই প্রশ্নটা এখন আবারও নতুন করে আলোচনায়।
বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার আগে যেমন ছিল অনিশ্চয়তা, তেমনি দলে জায়গা পাওয়ার পরও শান্তি আসেনি নেইমার শিবিরে। ভক্তদের জন্য প্রতিটি আপডেট যেন আশা আর শঙ্কার দোলাচলে ভরা। শেষ পর্যন্ত যখন তার নাম ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে দেখা গেল, তখন উচ্ছ্বাসে ভাসে গোটা দেশ। কিন্তু সেই আনন্দ খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে ম্যাচ খেলতে গিয়ে ডান পায়ের কাফ মাসলে গ্রেড-টু ইনজুরিতে পড়েন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। এরপর থেকেই তার মাঠে ফেরা নিয়ে তৈরি হয় নতুন অনিশ্চয়তা। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তার অংশগ্রহণ আদৌ সম্ভব হবে কি না—এই প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছিল ফুটবল দুনিয়াজুড়ে।
সর্বশেষ এমআরআই স্ক্যান রিপোর্ট অনুযায়ী, নেইমারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া প্রত্যাশামতোই এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে Brazilian Football Confederation। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তিনি ধীরে ধীরে উন্নতি করছেন এবং বর্তমানে জিম ও ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে মেডিকেল টিম এখনই কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ম্যাচে তাকে মাঠে নামানোর সম্ভাবনা নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে। গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ধীরে ধীরে তাকে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হচ্ছে, যেন কোনো ধরনের রি-ইনজুরির ঝুঁকি না থাকে।
নেইমারের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, ইনজুরি যেন তার ছায়াসঙ্গী। পেশাদার জীবনে বহুবার দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। তবুও প্রতিবারই তিনি ফিরে এসেছেন নতুন উদ্যমে, নতুন প্রত্যাশা নিয়ে।
ব্রাজিলের লক্ষ্য সবসময়ই এক—বিশ্বকাপ জেতা। আর সেই স্বপ্নের পথে নেইমার এখনো সবচেয়ে বড় ভরসার নামগুলোর একটি। তাই তার পুরোপুরি ফিট হয়ে ফেরা কেবল ব্রাজিলের কৌশলগত পরিকল্পনাই নয়, কোটি ভক্তের আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে।
এখন প্রশ্ন একটাই—এই ইনজুরির লড়াই পেরিয়ে কি আবারও সবুজ গালিচায় নিজের জাদু দেখাতে পারবেন Neymar Jr., নাকি ইতিহাসে তিনি থেকে যাবেন সেই প্রতিভা হিসেবে, যাকে থামিয়ে দিয়েছে সময় আর শরীরের সীমাবদ্ধতা?
পাঠকের মন্তব্য