![]()
দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই) খাতের বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন আবর্তনশীল পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃ অর্থায়ন তহবিল’ নামের এই বিশেষ স্কিমের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে, যার মেয়াদ সার্কুলার জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্ট থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নির্দেশনা জারি করেছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শ্রমনিবিড় এবং স্বল্প পুঁজি নির্ভর হওয়ায় সিএমএসএমই খাত দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আমদানি বিকল্প পণ্য ও সেবা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় চাহিদার তুলনায় এই খাতে চলতি মূলধনের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সচল সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন সরবরাহের মাধ্যমে তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের মন্থর অর্থনীতির চাকা গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঘোষিত নীতিমালার আওতায়, এই তহবিল থেকে পুনঃ অর্থায়নের বিপরীতে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ হারে সুদ বা মুনাফা প্রদান করতে হবে, যা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আরোপিত হবে। অন্যদিকে, গ্রাহক বা উদ্যোক্তা পর্যায়ে এই ঋণের সর্বোচ্চ সুদ বা মুনাফার হার হবে ৯ শতাংশ। ইসলামী শরীয়াহ ভিত্তিক পরিচালিত ব্যাংকগুলোও তাদের নিজস্ব অনুমোদিত বিনিয়োগ পদ্ধতির ভিত্তিতে এই সুবিধা প্রদান করতে পারবে। গ্রাহকদের সুবিধার জন্য এই ঋণে ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড বা কিস্তি পরিশোধের সাময়িক ছাড় সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালা বহির্ভূত অতিরিক্ত কোনো চার্জ বা ফি গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা যাবে না।
সার্কুলার অনুযায়ী, দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক এই তহবিল থেকে সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হলেও যেসব ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর/আইডিআর) ৭০ শতাংশের বেশি, তারা ঋণ প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবে। তবে কোনো ব্যাংকই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত এডিআর বা আইডিআর-এর সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। এই সুবিধা কার্যকর করতে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্টের সাথে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। সিআইবি বা ঋণ তথ্য ব্যুরো অনুযায়ী কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতা এই তহবিল থেকে কোনো ঋণ সুবিধা পাবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিতরণকৃত ঋণ আদায়ের সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং এর সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাওনাকে মেলানো যাবে না। ঋণ ঝুঁকি হ্রাসের প্রয়োজনে ব্যাংক গ্রাহকের কাছ থেকে সহায়ক জামানত গ্রহণ করতে পারবে। অন্যদিকে, ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক যেকোনো সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলব করতে পারবে এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করবে।
পাঠকের মন্তব্য