
ইবি রিপোর্ট
এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন সময়ে নিয়োগ পাওয়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
অন্যদিকে একই স্থানে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে কয়েকশ গ্রাহকও অবস্থান নেন। তাদের হাতে ছিল ‘এস আলমের লুটেরাদের ষড়যন্ত্র’ লেখা ব্যানার। চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের পুনর্বহালের দাবির বিপরীতে তারা ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষ পৃথকভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে চলে যান।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের সহসভাপতি শামিম হাসনাইন বলেন, ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় খবর পেয়ে তারা রাতেই অবস্থান নেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এস আলমের আমলে অনিয়ম ও জাল সনদের মাধ্যমে অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংক এসব নিয়োগের সনদ যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেয় এবং পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যদের বহাল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
শামিম হাসনাইনের ভাষ্য, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি। এখন চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে তারা ব্যাংকের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি গ্রাহক ফোরাম মেনে নেবে না বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মীদের একজন আনোয়ার বলেন, চাকরি হারানোর পর তারা দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গঠিত নতুন পরিচালনা পর্ষদ তাদের চাকরিচ্যুত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
চাকরি পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আনোয়ার বলেন, ‘চাকরি ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত বাড়ি যাব না। চাকরি ফেরত নিয়েই বাড়ি যাব।’
জাল সনদে নিয়োগের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পারে। তাদের নিয়োগ অবৈধ প্রমাণিত হলে চাকরির মাধ্যমে পাওয়া সব অর্থ ফেরত দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
তার দাবি, যাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সবাইকে একসঙ্গে চাকরিচ্যুত করার যৌক্তিকতা নেই।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের চাকরি পুনর্বহালের দাবির বিপরীতে গ্রাহক ফোরাম ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখার পাশাপাশি অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান কর্মসূচির কারণে রোববার সকালে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা সেখান থেকে চলে গেলেও চাকরি পুনর্বহাল ও নিয়োগের বৈধতা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য