![]()
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দেশের খেলার মাঠ ও পার্ক পুনরুদ্ধার, আধুনিকায়ন এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি-এর উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক ও অন্যান্য কারণে দেশের অনেক মাঠ, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান দখল হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার সেগুলো পুনরুদ্ধার করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
নিলুফার চৌধুরী মনি সংসদে বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের খেলার মাঠ ও পার্ক একসময় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও বয়স্কদের বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল। কিন্তু বর্তমানে অনেক মাঠ ও পার্ক মাদকসেবী, বখাটে, অবৈধ দখলদার এবং হকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১২৯টি ওয়ার্ডে মোট ২৩৫টি খেলার মাঠ থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য কার্যকরভাবে উন্মুক্ত রয়েছে মাত্র ৪২টি, যা মোট মাঠের প্রায় ১৮ শতাংশ। এছাড়া রাজধানীতে গত কয়েক বছরে ১২৬টি মাঠ হারিয়ে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সংসদ সদস্যের উত্থাপিত অধিকাংশ তথ্য বাস্তবসম্মত। তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর আওতায় ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠের উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছে। গুলিস্তানের শহীদ মতিউর রহমান পার্ক-কে হকার ও অপরাধমুক্ত করে আধুনিক পার্কে রূপান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি মতিঝিল পার্ক, নবাবগঞ্জ পার্ক, রসুলবাগ মাঠ, খিলগাঁও-বাসাবো মাঠ, সাদেক হোসেন খোকা মাঠ, হাজারীবাগ পার্ক এবং আমলীগোলা খেলার মাঠে উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন-এর আওতায় ৩৮টি পার্ক ও মাঠ আধুনিকায়ন করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একইভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেও মাঠ ও পার্ক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে আন্তঃস্কুল ফুটবল ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে, যা তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
মাঠ ও পার্কে মাদকসেবীদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের জবাবে তিনি বলেন, মাদক একটি বড় সামাজিক ব্যাধি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু আইন প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; সামাজিক সচেতনতা এবং জনসম্পৃক্ততাও প্রয়োজন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যুবসমাজ, সামাজিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করে মাদকের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মাঠ ও পার্কগুলোকে দখলমুক্ত, নিরাপদ ও শিশু-কিশোরবান্ধব পরিবেশে পরিণত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাঠকের মন্তব্য