![]()
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেছেন, ইরানের নেতৃত্ব এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়নি, কারণ তারা নিজেদের অবস্থানে অনড় ও আত্মবিশ্বাসী। তবে শেষ পর্যন্ত তেহরানকে আলোচনার পথেই আসতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শুক্রবার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের চিপেওয়া ফলস শহরে এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন এবং এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তারা আগে কখনো কল্পনাও করেননি। তার ভাষায়, “তাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই, যদিও এতে কিছুটা সময় লাগবে।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে দুই পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে Strait of Hormuz অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংকটের সমাধান রাতারাতি হয় না। সমালোচকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, “এ ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বছরের পর বছর সময় লাগতে পারে।” তিনি উদাহরণ হিসেবে Vietnam War-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর স্থায়ী হয়েছিল, অথচ বর্তমান সংঘাতের মাত্র তিন মাস হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে। তার মতে, অধিকাংশ ড্রোন কারখানা, উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামো অকার্যকর করা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে ইরানের হাতে এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের পূর্ববর্তী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ এখনো অবশিষ্ট রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মাধ্যমে দেখিয়েছে যে তারা এখনো আঞ্চলিক সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। পারস্য উপসাগর অঞ্চলে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘটনাকে ইরান তাদের প্রতিরোধক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে।
ট্রাম্প পুনরায় দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে ওয়াশিংটনকে বিকল্প পথ বিবেচনা করতে হতে পারে।
সাক্ষাৎকারের শেষদিকে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমরা কি একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নাকি অন্য পথ বেছে নেব। আর সেই অন্য পথ মোটেও সুখকর হবে না।”
পাঠকের মন্তব্য