![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ভারতে অবস্থানরত কথিত অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের সময় কমানোর অনুরোধ জানিয়েছে ভারত। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন।
তিনি জানান, ভারত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অবৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক কাঠামো অনুসরণ করেই কাজ করছে। কোনো বিদেশি নাগরিক ভারতীয় ভূখণ্ডে অবৈধভাবে অবস্থান করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে ভারত একতরফা কোনো পদক্ষেপ নেয় না। প্রত্যেক ব্যক্তির নাগরিকত্ব সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করার পরই প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
ভারতের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য একাধিক অনুরোধ জমা রয়েছে। এসব আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। ভারত আশা করছে, ঢাকা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় কথিত পুশ-ইন ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবি একাধিকবার নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বেশ কয়েকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা থেকে বিরত রাখে। এ প্রেক্ষাপটে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নাগরিকত্ব যাচাই এবং অবৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, সীমান্তে উত্তেজনা বা ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং সময়োপযোগী করা জরুরি। একইসঙ্গে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধি করা হলে সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে যৌথ উদ্যোগ চালু রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরছেন।
নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়টি দ্রুত সমাধান হলে সীমান্তে পুশ-ইন বিতর্ক কমবে এবং উভয় দেশের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে।
পাঠকের মন্তব্য