![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
উত্তরবঙ্গের একাধিক সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বেশ কয়েকজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি। লালমনিরহাট, পঞ্চগড় এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় একাধিক দলে বিভক্ত নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো হয়। তবে বিজিবির কঠোর নজরদারি, দ্রুত টহল কার্যক্রম এবং সীমান্তে সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি।
লালমনিরহাট জেলার বড়খাতা, পয়ষট্টিবাড়ি, দুর্গাপুর ও দিঘলটারী সীমান্ত এলাকায় অন্তত ৩৩ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করতে দেওয়া হয়নি এবং তারা বর্তমানে ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে।
লালমনিরহাট সীমান্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সীমান্তের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টির কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সমাধানের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তেও ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, বিএসএফ তাদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করলেও পরিচয় যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন এবং প্রচলিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তেও ২৮ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ এসব ব্যক্তি বর্তমানে ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে অবস্থান করছে। বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও প্রাথমিকভাবে বিএসএফ পুশ-ইনের অভিযোগ অস্বীকার করেছিল, পরে তারা বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ক ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টির সমাধান প্রয়োজন হলেও আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশ তার অবস্থানে অনড় রয়েছে।
বর্তমানে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিজিবির অতিরিক্ত টহল, নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনও সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার কিংবা পুশ-ইনের ঘটনা প্রতিরোধে বিজিবির এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।