![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে আবারও পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ১৭ জনকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর তাৎক্ষণিক ও কঠোর তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় ৮৮ বিএসএফ পান্নাছাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ হাঁপানিয়া বিওপির টহল দল।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজিবি সদস্যরা নারী, পুরুষ ও শিশুদের ভারতীয় শূন্য রেখার মধ্যে অবস্থান করতে দেখে। পরবর্তীতে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ৫ জন শিশু রয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত টহল মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান, সীমান্ত আইন ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইনের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের ঘটনায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মানবাধিকার এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে। তবে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট—যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির ধারাবাহিক অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন এবং যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাঠকের মন্তব্য