![]()
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ভোটদানকারী ১৯০ দেশের ভোটের মধ্যে তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পেয়েছেন ৯১ ভোট।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এ বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাবের প্রতিফলন। এটি শুধু একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা নয়; বরং বহুপাক্ষিক কূটনীতি, শান্তি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সাফল্যের পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব, স্বল্প সময়ে পরিচালিত সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ড. খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় নির্বাচনকে সামনে রেখে হাতে ছিল মাত্র তিন মাস। সেই সীমিত সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ বৈশ্বিক পর্যায়ে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচারণা চালিয়ে প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়।
বাংলাদেশ ২০২০ সালে ইউএনজিএ সভাপতির পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেও ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ড. খলিলুর রহমানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমর্থন সংগ্রহ করা হয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস ২০১৬ সালেই তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে এবং প্রায় এক দশক ধরে ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। সেই তুলনায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের এ বিজয়কে বড় ধরনের কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় কার্যকর বহুপাক্ষিকতা, জাতিসংঘের সংস্কার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর পক্ষে সহযোগিতা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গত ১৩ মে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ইন্টারঅ্যাকটিভ ডায়ালগে ড. খলিলুর রহমান তার ভিশন ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। কূটনৈতিক মহলে তার উপস্থাপনা ব্যাপক প্রশংসা পায় এবং এর পরপরই প্রায় ৩০টি দেশ প্রকাশ্যে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানায়।
আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হলে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোর একটির নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।
সরকার এ ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং জাতিসংঘের মূলনীতি, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
পাঠকের মন্তব্য