![]()
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর জুরাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নগরবাসীর প্রতি ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন এবং অনেক এলাকায় ইতোমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনও কিছু এলাকায় কাজ বাকি রয়েছে। তাই নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে শহর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট দেখে আমাদেরও ভাবা উচিত কেন নিজেদের শহরকে একইভাবে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত দেশগুলোতে শুধু সিটি করপোরেশনের কর্মীরাই নয়, সাধারণ নাগরিকরাও যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলেন না। নাগরিকদের এই সচেতনতাই একটি শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তোলে।
তারেক রহমান বলেন, একজন নাগরিক সরকারের অংশ না হলেও শহর পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ছোট ছোট অসচেতনতা থেকে বড় সমস্যা তৈরি হয়। আজ সামান্য ময়লা ফেলা হলে আগামীকাল তা আরও বড় আকার ধারণ করে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কয়েক হাজার মানুষ যদি প্রত্যেকে সামান্য পরিমাণ বর্জ্যও ছড়িয়ে দেয়, তবে তা একসময় বিশাল পরিমাণে জমে যায়। তাই নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।
তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের কথাও স্মরণ করেন। রোদ, ধুলাবালি, যানবাহনের ধোঁয়া ও শব্দের মধ্যে দিনভর কাজ করতে তাদের যে কষ্ট হয়, সে বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বলেন, সবাই মিলে দায়িত্বশীল আচরণ করলে শহর পরিষ্কার রাখা অনেক সহজ হবে এবং নাগরিকরাও একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন।
নগরবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে এমপি, মন্ত্রী, মেয়র কিংবা কাউন্সিলর হওয়ার প্রয়োজন নেই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেই এই কাজ করা সম্ভব। তিনি পরামর্শ দেন, ব্যবহৃত টিস্যু, কাগজ বা অন্যান্য বর্জ্য পকেটে রেখে পরে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। এমনকি বাদামের খোসাও যেখানে-সেখানে ফেলা উচিত নয়।
দেশ গঠনে সবার অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তি, পরিবার, রাজনৈতিক দল কিংবা সরকারের একার নয়; এটি দেশের কোটি মানুষের। তাই দেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে এবং নিজের এলাকা ও দেশকে ভালোবেসে ছোট ছোট ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে অবদান রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ সালাউদ্দিন আহমেদ, মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পাঠকের মন্তব্য