![]()
ইবি রিপোর্ট
শহীদ ওসমান হাদী হত্যার দ্রুত বিচারসহ তিন দফা দাবি সামনে রেখে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত থেকে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। বুধবার দুপুরে বাংলাবান্ধা সীমান্তের জিরো পয়েন্টে দোয়া ও মোনাজাতের পর সংগঠনের সদস্যরা পদযাত্রায় অংশ নেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে পথের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মধ্যে দাবিসংবলিত লিফলেটও বিতরণ করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি টেকনাফ পর্যন্ত যাবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে তা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর রাজধানীর শাহবাগে মহাসমাবেশ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুরো কর্মসূচির সমাপ্তি টানার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির ঘোষিত তিন দফা দাবির প্রথমটি হলো শহীদ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয় দাবিতে গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় দাবিতে জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে অবস্থান করা খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও তুলেছে ইনকিলাব মঞ্চ। এসব দাবিকে সামনে রেখে দেশের উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিণের টেকনাফ পর্যন্ত পদযাত্রার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধায় কর্মসূচির প্রথম দিনে স্থানীয়দের পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। কর্মসূচির প্রথম দিনে বাংলাবান্ধা থেকে হেঁটে ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তেঁতুলিয়ায় দিনের কর্মসূচি শেষ করার কথা রয়েছে। পদযাত্রার পথে বিভিন্ন বাজারে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচির শুরুতে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে বেঁচে থাকুক, সেটা ভারত চায় না। তারা জুলাই হত্যাকারীদের বাংলোয় লালন-পালন করছে। আমরা ভারত সরকারকে আহ্বান করতে চাই, আপনি যদি বাংলাদেশের মানুষকে সত্যি সত্যি বন্ধু মনে করেন, কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেছেন হাদী হত্যাকারীদের নিয়ে যেন কোনো কথা না বলেন। এর মাধ্যমে এটা স্পষ্ট হয়, হাদী হত্যায় ভারত, আওয়ামী লীগ সরাসরি জড়িত।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, আমরা সরকারকে বলতে চাই, ডিসেম্বরের মধ্যে কোন প্রক্রিয়ায় ভারতের সঙ্গে কথা বলে খুনিদের ফিরিয়ে আনবেন, সেটা আপনাদের বিষয়। তবে হাদী হত্যাকাণ্ডকে যদি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে আপামর জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে যারা ভারতের প্রভুদের খুশি করার চেষ্টা করবে, তাদের প্রতিহত করা হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের এই কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদ ওসমান হাদী হত্যার বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচারসহ ভারতে থাকা খুনিদের দেশে ফেরানোর দাবিগুলো জনসম্মুখে তুলে ধরা হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত পদযাত্রা শেষে ১৮ ডিসেম্বর শাহবাগের মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির।
পাঠকের মন্তব্য