![]()
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রাজধানীর জিয়া উদ্যান হয়ে ওঠে শ্রদ্ধা, স্মৃতি ও আবেগের এক অনন্য মিলনমেলা। ভোরের প্রথম আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ জিয়া উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন। কারও হাতে ফুল, কারও হাতে দলীয় পতাকা, আবার কেউ শুধুই প্রিয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিজয় সরণি থেকে জিয়া উদ্যান পর্যন্ত পুরো এলাকা মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।
দিনের শুরুতে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান দলীয় নেতারা, এ সময় দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। সমাধি প্রাঙ্গণে উপস্থিত হাজারো মানুষের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সমাধির চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের নীরব উপস্থিতি, কারও কারও চোখের অশ্রু এবং দীর্ঘক্ষণ অপলক তাকিয়ে থাকার দৃশ্য পুরো আয়োজনকে এক গভীর আবেগের আবহে রূপ দেয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল, শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় পুরো জিয়া উদ্যান স্লোগান, ফুল আর দোয়ার মিলিত আবেগে মুখর হয়ে ওঠে। প্রবীণ সমর্থক থেকে শুরু করে তরুণ কর্মী—সবাইই জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন দেশপ্রেম, নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রতীক হিসেবে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন নেতা ও কর্মীরা বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শ, সততা ও রাষ্ট্র পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি আজও তাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। কেউ কেউ বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং আত্মনির্ভর অর্থনীতির ধারণা—সব মিলিয়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণও এ কর্মসূচিতে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়, যারা মনে করে তার রাজনৈতিক দর্শন এখনো প্রাসঙ্গিক।
এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল। তবে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দিনের শেষভাগে জিয়া উদ্যান শুধু একটি সমাধিস্থল নয়, বরং হয়ে ওঠে স্মৃতি, শ্রদ্ধা ও রাজনৈতিক আবেগের এক ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ—যেখানে ফুল, দোয়া ও নীরবতার ভাষায় বারবার উচ্চারিত হয় একজন নেতার প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা।
পাঠকের মন্তব্য