![]()
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো ও একটি প্রাথমিক সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। তবে একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, আলোচনায় সমঝোতা না হলে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। এসব অস্থিরতার প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে নতুন করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পৃক্ততা নিয়েও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানা দাবি উঠেছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছে দেশটি, যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এসব দাবি সত্য হলে তা উপসাগরীয় অঞ্চলের শক্তি-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় এবং বিদ্যমান জোট ও বিভাজনকে আরও জটিল করে তোলে।
অন্যদিকে বাংলাদেশে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান–এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া মাহফিল এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে। দলটির শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত থেকে তার রাজনৈতিক আদর্শ, বহুদলীয় গণতন্ত্রে ভূমিকা এবং রাষ্ট্র গঠনে অবদানকে স্মরণ করেন। এ উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচিগুলো রাজধানীসহ সারাদেশে একযোগে পালন করা হয়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইরানের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা। চীনা অস্ত্র ও রাডার প্রযুক্তি ইরানের হাতে পৌঁছানোর দাবি, মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা এবং স্যাটেলাইট ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে পারস্পরিক অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এসব তথ্য যদিও অনেক ক্ষেত্রেই নিশ্চিত নয় বা তদন্তাধীন, তবুও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে আস্থাহীনতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই বাড়ছে।
এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন–কে ঘিরে দীর্ঘায়ু গবেষণার একটি রাষ্ট্রীয় প্রকল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিন থেরাপি, বায়োপ্রিন্টিং এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রযুক্তির মাধ্যমে মানবদেহের বার্ধক্য ধীর করার লক্ষ্যে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে। যদিও রুশ কর্তৃপক্ষ এসব গবেষণাকে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে তুলে ধরছে, সমালোচকদের মতে এর বাস্তব ফলাফল ও স্বচ্ছতা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ।
সব মিলিয়ে বর্তমান বৈশ্বিক চিত্রে একদিকে যুদ্ধ, কূটনীতি ও নিরাপত্তা সংকট, অন্যদিকে প্রযুক্তি ও বায়োটেকনোলজির প্রতিযোগিতা একসঙ্গে এগিয়ে চলেছে। এই জটিল সমীকরণ শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।
পাঠকের মন্তব্য