![]()
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়া-কমার ধাক্কা সরাসরি পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও। এর ফল হিসেবে দেশটিতে আবারও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে বলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে—এপ্রিল মাসে যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৮ শতাংশে, আগের মাসে ছিল ৩.৫ শতাংশ। একই সময়ে ব্যক্তিগত আয় সেই হারে না বাড়ায় সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
ফলে জ্বালানি, খাদ্য এবং বাসাভাড়া—এই তিনটি খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক পরিবার দৈনন্দিন খরচ মেটাতে গিয়ে সঞ্চয় ভেঙে ফেলছে, আবার কেউ কেউ ক্রেডিট কার্ড ও ঋণের ওপর নির্ভর করছে। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের হার প্রায় আড়াই শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন।
বিশ্ববাজারে অস্থিরতার একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, যেটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই পথে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, গ্যাস ও সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায়, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় সব দেশের অর্থনীতিতে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক Federal Reserve সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী মাসগুলোতে সুদের হার নীতি আরও কঠোর হতে পারে, যা ভোক্তা ব্যয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য