![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
রাশেদ খাঁন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম-কে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার প্রশ্নে হাসনাত আব্দুল্লাহ অন্য সমন্বয়কদের সঙ্গে হাতাহাতিতেও জড়িয়েছিলেন।
রাশেদ খাঁনের পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি পোস্টে একটি অডিও ক্লিপও যুক্ত করেন এবং দাবি করেন, সেই অডিওতে হাসনাত ও সারজিসের কথিত “বেইমানির” আংশিক প্রমাণ রয়েছে।
পোস্টে তিনি লেখেন, “নাহিদ ও আসিফ ডিবিতে মার খেতো, আর হাসনাত-সারজিস ডিবি কার্যালয়ের পুকুরপাড়ে জুস খেত।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সমন্বয়কের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এছাড়া বিএনপির সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ বেশি কথা বললে ওই অডিও বাজানোর জন্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, আন্দোলনের সময় হাসনাত ও সারজিসের দুর্বলতার কারণেই পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলন গড়ে ওঠে। তবে তার ভাষায়, “প্রকৃতপক্ষে তারা আওয়ামী লীগের পক্ষেরই লোক।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একজন উপদেষ্টা শপথ নেওয়ার আগে নাকি মন্তব্য করেছিলেন— “হাসনাত-সারজিস জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে।” যদিও তিনি সেই উপদেষ্টার নাম উল্লেখ করেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে গণঅভ্যুত্থান, ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক পালাবদলকে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্নমুখী বক্তব্য সামনে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও বা অনানুষ্ঠানিক বক্তব্যের সত্যতা যাচাই ছাড়াই রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার করাও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে হাসনাত আব্দুল্লাহ বা সারজিস আলম এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।