![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের শ্রমজীবী মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে বেতন, ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধে জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা সময়মতো বুঝিয়ে দিতে ইতোমধ্যে ব্যাংক, শিল্প মালিক, শ্রমিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কষ্ট কমাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করতে “ফ্যামিলি কার্ড” চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো নিয়মিত সহায়তা পাচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাহদী আমিন বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। ইতোমধ্যে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। গত মাসে প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য নতুন নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র, হাই-স্পিড ফ্রি ওয়াই-ফাই, স্পোর্টস কার্যক্রম এবং নতুন কুঁড়ি প্রকল্প তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ ট্রেন, নৌ-সার্ভিস এবং নারীদের জন্য আলাদা ট্রেন কম্পার্টমেন্ট চালু করা হবে। এছাড়া ঈদের সময় কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেও কঠোর নজরদারি থাকবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজার এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত হলে শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ফিরবে এবং ঈদকে ঘিরে অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
পাঠকের মন্তব্য