![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বাণীতে Mirza Fakhrul Islam Alamgir অভিযোগ করেছেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সিদ্ধান্তের কারণেই বাংলাদেশ আজও অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
শুক্রবার (১৬ মে) প্রকাশিত এই বাণীতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভারতের ফারাক্কা বাঁধ শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ও মানবিক সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার দাবি, জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে স্থায়ী রূপ নেয় এবং দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ প্রভাব ফেলে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আন্তর্জাতিক নদী ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত ভারসাম্য বিবেচনা না করেই ভারতের পক্ষে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে গঙ্গা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং বাংলাদেশের বহু অঞ্চলে পানির সংকট, নদীভাঙন, কৃষি উৎপাদন হ্রাস ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি শুরু হয়।
তিনি আরও বলেন, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ধীরে ধীরে উষর ও মরুকরণের ঝুঁকিতে পড়েছে। পানির অভাবে কৃষক, জেলে এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা কঠিন হয়ে উঠেছে। পরিবেশবিদদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ফারাক্কা বাঁধের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।
বিএনপি মহাসচিব তার বক্তব্যে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজ থেকে ৪৯ বছর আগে মজলুম জননেতা Abdul Hamid Khan Bhashani জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহী থেকে ফারাক্কার উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক লংমার্চ করেছিলেন। সেই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা।
তার ভাষায়, মাওলানা ভাসানী দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়ে তখনই বুঝতে পেরেছিলেন যে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশের পরিবেশ, কৃষি ও অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। সেই কারণেই তিনি বিষয়টি বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেছিলেন।
মির্জা ফখরুল আরও অভিযোগ করেন, শুধু গঙ্গা নয়, ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতেই একের পর এক বাঁধ ও পানি নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন উপেক্ষা করে একতরফা পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদী শুকিয়ে যাওয়া, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান।
ফারাক্কা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ন্যায্য অধিকার আদায়ে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রতীক হচ্ছে ১৬ মে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই দিবস ভবিষ্যতেও জনগণকে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করবে।
শেষে তিনি ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেওয়া কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
পাঠকের মন্তব্য