![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের রিয়েল এস্টেট খাতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় আবাসন শিল্পে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কেওয়াইসি এবং কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে, অর্থনীতিতে অপ্রদর্শিত আয়ের প্রবণতা রোধে আবাসন খাতের নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে আনার যৌক্তিক দাবি জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।
বিএফআইইউ কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এই সভায় রিহ্যাব প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি ড. আলী আফজাল। সভায় বিএফআইইউ’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুনসহ অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও রিহ্যাবের পক্ষে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকতউল্লাহসহ সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। বিএফআইইউ কর্মকর্তারা রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত রিপোর্টিং এবং গ্রাহক যাচাইকরণ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে পালনের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজাল তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের আবাসন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে তারা সরকারি নীতিমালার প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। তিনি বলেন, “মানিলন্ডারিং রুখতে বিএফআইইউ’র সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সচেতন করতে কার্যকর ভূমিকা রাখব।” এর পাশাপাশি তিনি ফ্ল্যাট বা জমি নিবন্ধনের চড়া ব্যয়কে অপ্রদর্শিত আয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তা কমানোর জোর দাবি জানান।
সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখতে এবং খাতে সুশাসন নিশ্চিতে কমপ্লায়েন্সের কোনো বিকল্প নেই। আইন অনুযায়ী রিপোর্টিং ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ডেভেলপারদের দক্ষ করে তুলতে রিহ্যাব নিয়মিত কাজ করে যাবে বলেও তিনি সভায় আশ্বস্ত করেন।
সভায় রিহ্যাব নেতারা মানিলন্ডারিং বিরোধী সরকারি তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মতো সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বিতভাবে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। বিএফআইইউ কর্মকর্তারাও আবাসন খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নে কঠোর মনিটরিংয়ের কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন।