![]()
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে চায়। তিনি বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই বৈদেশিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
আজ সকালে রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে আয়োজিত ‘সি.ও.এম.পি.এ.এস.এস. ডায়ালগ, চ্যাপ্টার-১: দ্য ওয়েস্টার্ন ক্যালিব্রেশন’ শীর্ষক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্যাকটিকস রিসার্চ (আইএসটিআর) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে এবং গ্যাস উৎপাদন ও উত্তোলন বাড়াতে আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তার মতে, দীর্ঘদিনের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ধীরগতি ও সমন্বয়হীনতা। এই সমস্যা দূর করে দেশকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি খাতের অগ্রগতি এবং নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে সরকার বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে চায়। তিনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রতি সরকারের সহযোগিতার আশ্বাসও পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় এখন অনেক ইতিবাচক, যা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে।
অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান-এর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সরকার দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ।
সমসাময়িক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যেই এ সংলাপ আয়োজন করা হয়। এতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কূটনীতিক, গবেষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
পাঠকের মন্তব্য