![]()
সাতক্ষীরায় ভরা আম মৌসুমের শুরুতেই বাজারে স্থানীয় জাতের আমে জমজমাট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বুধবার (৬ মে) শহরের সুলতানপুর বড় বাজারে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ ও গোলাপখাসসহ বিভিন্ন জাতের আমের সরবরাহ ব্যাপকভাবে দেখা গেছে। পাইকারি বাজারে মান ও আকারভেদে প্রতি মণ গোবিন্দভোগ আম বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায়, আর খুচরা পর্যায়ে তা ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকায় পৌঁছাচ্ছে। একই দামে গোপালভোগ আমও বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে আমের সরবরাহ অনেক বেশি। ফলে তুলনামূলকভাবে দাম কিছুটা কম হলেও কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সরবরাহ আরও বাড়লে আগামী দিনে দাম আরও কমতে পারে বলেও ধারণা তাদের।
অন্যদিকে চাষিদের পক্ষ থেকে কিছুটা ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। একজন চাষি জানিয়েছেন, পাইকাররা মণপ্রতি ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা দরে আম কিনতে চাইছেন, যা তাদের প্রত্যাশার তুলনায় কম। ফলে সরাসরি বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের বাজারের তুলনায় অনলাইনে আমের দামে বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। কুরিয়ার ও অন্যান্য খরচ যোগ করে অনলাইন বিক্রেতারা প্রতি কেজি আম প্রায় ১২৫ টাকায় বিক্রি করছেন, যা হিসাব করলে প্রতি মণ আমের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকায় দাঁড়ায়।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ বছর জেলায় আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন। ৫ মে থেকেই স্থানীয় জাতের আম বাজারে আসতে শুরু করেছে এবং ১৫ মে থেকে হিমসাগরসহ উন্নত জাতের আম বাজারে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমে কেমিক্যাল ব্যবহার রোধে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ আম পৌঁছে দিতে প্রশাসন কাজ করছে।
তবে অনলাইন বাজারে দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সেখানে আলাদা একটি মূল্য কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় বাজারের সঙ্গে মিলছে না।
পাঠকের মন্তব্য