![]()
ভারতের রাজনীতিতে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে ২১টি রাজ্য এবং একাধিক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তাদের শাসন বিস্তৃত হয়েছে বলে বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে। গত ১২ বছরে হিন্দিবলয় থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্ব, পশ্চিম ও পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে ধারাবাহিক নির্বাচনি সাফল্যের মাধ্যমে এই বিস্তার ঘটেছে। বর্তমানে ভারতের প্রায় ৭২ শতাংশ ভৌগোলিক এলাকা এবং জনসংখ্যার বড় একটি অংশ এই জোটের শাসনের আওতায় রয়েছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের পর থেকে বিজেপি প্রথমে উত্তর ভারতের শক্ত ঘাঁটি সুদৃঢ় করে, এরপর ধীরে ধীরে জোট রাজনীতি ও সাংগঠনিক বিস্তারের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে। মহারাষ্ট্র, ওড়িশা এবং সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে সাফল্য দলটির রাজনৈতিক প্রভাবকে আরও বিস্তৃত করেছে।
তবে এই অগ্রযাত্রা সবসময় স্থিতিশীল ছিল না। ২০১৮ সালের পর মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়সহ কয়েকটি বড় রাজ্যে পরাজয়ের কারণে বিজেপির রাজ্য নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পরবর্তী সময়ে মহামারী ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দলটি আবার ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় এবং সংগঠন পুনর্গঠনের মাধ্যমে নতুন করে বিস্তার ঘটায়।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসন কমলেও এনডিএ জোট কেন্দ্রীয় ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়, যা দলটির জন্য এক ধরনের সতর্ক বার্তা হিসেবে দেখা হয়। এরপর থেকে স্থানীয় ইস্যু, বুথ-স্তরের সংগঠন শক্তিশালী করা এবং আঞ্চলিক জোট ব্যবস্থাপনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয় বিজেপি। এর ফলেই পরবর্তী কয়েক বছরে একাধিক রাজ্যে ক্ষমতা অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের সঙ্গে তুলনা টানা হলেও বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, বর্তমান এনডিএ কাঠামো সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। একদিকে বিজেপি এককভাবে বহু রাজ্য শাসন করছে, অন্যদিকে কিছু রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে জোট করে সরকার পরিচালনা করছে।
তবে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো এখনো এই রাজনৈতিক বিস্তারের বাইরে রয়েছে। কেরালা, তামিলনাড়ু ও অন্যান্য দক্ষিণী রাজ্যে বিজেপি বা এনডিএ উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পারেনি, যা ভারতের রাজনৈতিক ভারসাম্যে আঞ্চলিক বৈচিত্র্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
এই বিশাল ফেডারেল নিয়ন্ত্রণকে বিশ্লেষকরা একদিকে শক্তি হিসেবে দেখলেও, অন্যদিকে এটিকে বড় ধরনের দায়বদ্ধতাও মনে করছেন। কারণ এতগুলো রাজ্যের শাসন ব্যবস্থায় সমন্বয়, জবাবদিহিতা ও কার্যকর প্রশাসন বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে ভবিষ্যতে এই বিস্তার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি পরীক্ষার মুখেও ফেলতে পারে বলে মত দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।
পাঠকের মন্তব্য