![]()
রাজধানী Dhaka-কে ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে Dhaka North City Corporation এবং Dhaka South City Corporation-এর মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে সাপ্তাহিক কার্যক্রম, বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলো উন্নত করা হচ্ছে এবং সবুজায়ন ও সচেতনতামূলক গ্রাফিতির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য ‘জিরো ওয়েস্ট’ বাস্তবায়ন।
সবুজায়নের অংশ হিসেবে সড়কের মিডিয়ান, উন্মুক্ত স্থান ও দ্বীপগুলোতে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। Dhaka North City Corporation আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি মেট্রোরেলের নিচের খালি জায়গা এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচেও বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে Department of Environment Bangladesh বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। Dhaka Transport Coordination Authority-এর সঙ্গে সমন্বয়ে আধুনিক বাস সার্ভিস চালু এবং ২৫০টি বৈদ্যুতিক বাস নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন, নির্মাণকাজ এবং ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
শহরের চারপাশে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং Savar-কে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে সেখানে ইটভাটা ও খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নদী ও জলাশয়ের দূষণ রোধে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে শতাধিক প্রতিষ্ঠানে এটি বাস্তবায়ন হয়েছে।
এছাড়া Buriganga River, Shitalakshya River, Balu River এবং Turag River-সহ গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর দূষণের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। বন অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে হাজার হাজার গাছ লাগানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে বনায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকার আশা করছে, এসব সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
পাঠকের মন্তব্য