![]()
ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল) রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছান। এই সফরকে ঘিরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার আজ (শনিবার, ২৫ এপ্রিল) সকালে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা দেবেন। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অবস্থানে কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে এবং এই সপ্তাহান্তে একটি ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছে ওয়াশিংটন। আলোচনা সফল হলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও পরে যোগ দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান বলছে তাদের অবস্থান এখনো শর্তসাপেক্ষ। ইসলামাবাদে অবস্থানকালে আরাঘচি পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার নতুন প্রস্তাবগুলো তুলে ধরবেন। এসব প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান।
আলোচনার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, লেবাননে সংঘাত ও যুদ্ধবিরতির অগ্রগতি আলোচনার অংশ হওয়া উচিত। তবে মাঠপর্যায়ে লেবানন-এ ইসরাইল–হিজবুল্লাহ উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে, যেখানে সাম্প্রতিক হামলায় নতুন করে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ফলে রাজনৈতিক সমাধানের পথ এখনো জটিল রয়ে গেছে।
অন্যদিকে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ চলাচলের বদলে এখন খুব অল্পসংখ্যক জাহাজ পার হচ্ছে, ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব সরাসরি তেলের দামে পড়েছে, যেখানে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরানের বন্দরে নৌ-অবরোধ চলমান থাকবে, আর ইরান বলছে অবরোধ প্রত্যাহার ছাড়া হরমুজ প্রণালি খুলবে না। এই অবস্থানগত সংঘাতই মূলত শান্তি আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ইসলামাবাদে শুরু হওয়া এই কূটনৈতিক তৎপরতা আপাতত একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করছে দুই পক্ষের পারস্পরিক ছাড় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।
পাঠকের মন্তব্য