![]()
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক হামলার খবরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।
শুক্রবারের লেনদেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ০.৬৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৭৩ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ফিউচার ০.৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬.১৭ ডলারে।
⚠️ কেন বাড়ছে তেলের দাম
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়া, সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট পরিস্থিতি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বে মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
???? রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক প্রভাব
ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর পদত্যাগের খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এটি কার্যত সীমিত থাকবে। একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের কিছু তেলবাহী জাহাজকে বাধা দেওয়ার খবরও এসেছে।
???? বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত
বৃহস্পতিবার এক পর্যায়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৫ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যায়। যদিও পরে কিছুটা কমে, তবুও বাজারে অস্থিরতা রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। ফলে তেলের দামে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে এবং সরবরাহ সংকট আরও গভীর হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
???? মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর, যেখানে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে পরিবহন, বিদ্যুৎ এবং নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি নতুন করে চাপের মুখে পড়তে পারে।
পাঠকের মন্তব্য