![]()
ইতালির সংসদ সদস্য ও গ্রিন ইউরোপ পার্টির মুখপাত্র অ্যাঞ্জেলো বোনেল্লির বরাতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত এসেছে মূলত রাজনৈতিক ও জনমতের চাপ এবং সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
বোনেল্লি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক চুক্তিকে একটি “কূটনৈতিক হাতিয়ার” হিসেবে দেখলেও অবস্থান পরিবর্তন করেন, বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে থাকা ইতালীয় সদস্যদের ওপর হামলার পর। তাঁর ভাষায়, ওই ঘটনার পর সরকারকে নীতিগত পুনর্বিবেচনায় যেতে হয় এবং ইতালির ভেতরে যুদ্ধবিরোধী জনমতও এতে বড় ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, গাজায় চলমান যুদ্ধ, বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ইতালির ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের সঙ্গে ২০০৩ সালের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি—যা অস্ত্র, প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম আদান–প্রদানসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা কাঠামো তৈরি করেছিল—সেই চুক্তির নবায়ন স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসে।
ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেটো ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে চুক্তি বাতিলের ইচ্ছা জানানোর পর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসে। পরদিন প্রধানমন্ত্রী মেলোনি ঘোষণা দেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত রাখা হবে।
তবে ইসরাইল সরকার এই সিদ্ধান্তকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বলেছে, চুক্তিটি বাস্তবে খুব সীমিতভাবে কার্যকর ছিল এবং এর ফলে তাদের নিরাপত্তায় কোনো প্রভাব পড়বে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইল নীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিভাজন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে জনমতের চাপকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
পাঠকের মন্তব্য