![]()
রেমিট্যান্স ডলারের দাম ১২২.৯০ টাকায় রাখতে মৌখিক নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের
ঢাকা, ১৪ এপ্রিল: দেশে ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ডলার কেনাবেচার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ নির্দেশনা লিখিত নয়, মৌখিকভাবে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার বিক্রির সর্বোচ্চ দর ১২২.৭০ টাকা নির্ধারণের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে রেমিট্যান্স কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২২.৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ব্যাংকগুলোকে তাদের বিলস ক্লিন (বিসি) বা সেলিং রেট কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার বিক্রির দর ছিল ১২৩.২৫ থেকে ১২৩.৫০ টাকার মধ্যে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে কয়েকটি ব্যাংক বেশি দামে রেমিট্যান্স কেনার বিষয়টি উঠে আসে, যা বাজারে ডলারের দামে চাপ সৃষ্টি করেছিল।
ব্যাংকারদের মতে, বর্তমানে ডলার বাজারে সরবরাহ ভালো থাকায় বড় ধরনের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বাজারে ইতোমধ্যে স্থিতিশীলতা এসেছে এবং ব্যাংকগুলোর নিট ওপেন পজিশনও সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।
তবে কিছু ব্যাংক আগে বেশি দামে ডলার কেনায় এখন কম দামে আন্তঃব্যাংক বাজারে বিক্রি করতে অনাগ্রহী হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে অনেক প্রবাসী আগেই দেশে অর্থ পাঠিয়ে দিয়েছেন, যার ফলে মার্চ মাসে রেমিট্যান্সে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ডলারের দাম বাড়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা ফরওয়ার্ড বুকিং বাড়াচ্ছেন। এতে ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আগেই ডলারের দর নির্ধারণ করে রাখা যায়, যা বিনিময় হার ওঠানামার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত ফরওয়ার্ড বুকিং নিরুৎসাহিত করছে, বিশেষ করে স্পট মার্কেট থেকে ডলার কিনে ফরওয়ার্ড চুক্তি করার ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলারের দামে এই মৌখিক নিয়ন্ত্রণ মূলত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি কৌশল। তবে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্বাভাবিক প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।
পাঠকের মন্তব্য