
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব এখন আর শুধু শিল্পকারখানা কিংবা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং ব্যবসায়ীদের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রভাব ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে পুরো বাজারব্যবস্থায়। এর সরাসরি চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও সংসারের বাজেটে।
সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা এবং ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার এমন চিত্রই উঠে এসেছে। কোথাও ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে, কোথাও চিনি, ডিম ও মুরগির দাম বাড়ছে। একই সঙ্গে কিছু ভোগ্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রাখলেও প্যাকেটের ওজন কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
মগবাজারে তিনটি দোকান ঘুরে এক লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকায় কিনেছেন গৃহিণী রেশমা আক্তার। কয়েক দিন আগেও একই পরিমাণ তেল ১৮০ টাকার আশপাশে পাওয়া যেত।
দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে দোকানদার তাকে কোম্পানির কাছে জানতে বলেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে রেশমা বলেন, মাত্র ১৫-২০ দিনের ব্যবধানে তেলের দাম কেন এতটা বাড়ল, তার কোনো স্পষ্ট উত্তর তিনি পাচ্ছেন না।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন কারওয়ান বাজারের ক্রেতা আকরাম হোসেন। শনিবার তিনি এক কেজি চিনি কিনেছেন ১৩০ টাকায়। অথচ মাত্র তিন দিন আগেও একই দোকান থেকে ১১০ টাকা দিয়ে চিনি কিনেছিলেন।
তার ভাষায়, গত কয়েক দিনে চাল ছাড়া প্রায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর সঙ্গে মোটরসাইকেলের জ্বালানি খরচও বাড়ছে, অথচ আয় বা বেতন বাড়েনি।
এক দিনের ব্যবধানেই বাড়ছে চিনির দাম
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, নিত্যপণ্যের বাজারে দাম বাড়ার অন্যতম কারণ সরবরাহকারীদের কাছ থেকে বেশি দামে পণ্য পাওয়া।
কারওয়ান বাজারের দোকানি মো. রায়হান জানান, পরিবেশকেরা এক দিনের ব্যবধানেই ৫০ কেজির চিনির বস্তার দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে খুচরা ব্যবসায়ীদেরও বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে।
তার বক্তব্য, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়লে খুচরা বিক্রেতাদের পক্ষে লোকসান দিয়ে দীর্ঘদিন পণ্য বিক্রি করা সম্ভব নয়।
গ্যাস সংকটে বাড়ছে পরিবহন ব্যয়
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যাতায়াত ব্যয়েও। এলিফ্যান্ট রোড থেকে বাড্ডা যাওয়ার জন্য এক যাত্রীর কাছে সিএনজি অটোরিকশাচালক ৫০০ টাকা ভাড়া দাবি করেন। স্বাভাবিক সময়ে একই দূরত্বে ভাড়া প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে থাকে।
চালক হারিছ মিয়ার দাবি, গ্যাস সংকটের কারণে দিনে ছয়-সাত ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।
তার ওপর প্রতিদিন গাড়ির মালিককে নির্ধারিত টাকা জমা দেওয়ার পর চালকের হাতে খুব সামান্য অর্থ থাকে। এ কারণে বেশি ভাড়া না নিলে তাদের পক্ষে খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
ভোজ্যতেলের বাজারেও অস্থিরতা
নিত্যপণ্যের মধ্যে ভোজ্যতেলের বাজারেও দেখা দিয়েছে বাড়তি চাপ। গত ২৯ এপ্রিল সরকার প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮০ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৯৭৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল।
কিন্তু বর্তমানে রাজধানীর কিছু বাজারে খোলা সয়াবিন তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে পাঁচ লিটারের বোতলজাত তেলের সরবরাহেও ঘাটতির কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পাম তেলও লিটারপ্রতি ১৬৬ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত দামের তুলনায় বেশি।
তবে ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তেলের দাম বাড়ায়নি।
সিটি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে গত এক সপ্তাহে প্রতি টন সয়াবিনের দাম প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ডলার বেড়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে পরিচালন ব্যয়ও প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ বেড়েছে।
তারপরও কোম্পানিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে দাম বাড়ায়নি বলে জানান তিনি। তবে দীর্ঘদিন লোকসান হলে কোনো কোনো কোম্পানি বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
আটা-ময়দা, ডাল ও গুঁড়া দুধেও বাড়তি চাপ
নিত্যপণ্যের বাজারে শুধু তেল ও চিনিই নয়, আটা-ময়দা, ডাল, গুঁড়া দুধসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বেড়েছে।
বর্তমানে খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা ময়দার দাম বেড়ে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দার দাম ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায় উঠেছে।
ধরনভেদে ডালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধের দামও কেজিতে ২০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক কেজি গুঁড়া দুধের দাম প্রায় ৯৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
গত দুই মাসে পোলাও চালের দামও কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. আরিফুর রহমান সালমান জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তীর ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যান্য তেলও চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে পোলট্রি খাতে
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পোলট্রি খাতেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির বাজারে পড়তে শুরু করেছে।
প্রায় ১৫ দিন আগে ঢাকার বাজারে এক ডজন ডিমের দাম ছিল প্রায় ১৩০ টাকা। এখন তা বেড়ে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে প্রায় ১৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকায় উঠেছে।
খুচরা বিক্রেতাদের মতে, খামারগুলোতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং মুরগির মৃত্যুহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।
বাংলাদেশ পোলট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশাররফ হোসেন জানান, ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদনের জন্য হ্যাচারিতে টানা ২১ দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন।
কিন্তু বিদ্যুৎ সংকটের কারণে খামারিদের দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে ডিজেল খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।
তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মুরগির মৃত্যুহার বেড়েছে বলেও জানান তিনি। জ্বালানি কিনে দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তার দাবি।
দাম না বাড়িয়ে কমছে পণ্যের ওজন
বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি আরেকটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—পণ্যের দাম একই রেখে প্যাকেটের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া।
প্রায় এক মাস আগে ৩০০ গ্রামের ভিম বার ৪০ টাকায় বিক্রি হতো। বর্তমানে এর ওজন কমিয়ে ২৭৫ গ্রাম করা হলেও দাম রাখা হয়েছে ৪০ টাকা।
একইভাবে, প্রায় দুই মাস আগে ২০০ গ্রামের প্যারাসুট তেলের বোতলের দাম ছিল ২০০ টাকা। এখন এর পরিমাণ কমিয়ে ১৯০ গ্রাম করা হয়েছে এবং দাম বাড়িয়ে ২২০ টাকা করা হয়েছে।
ডিটারজেন্টের দামও বেড়েছে। হুইল ডিটারজেন্ট পাউডারের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৬৫ টাকা এবং রিন ডিটারজেন্টের দাম ১৫ টাকা বেড়ে ১৯৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কয়েকটি ব্র্যান্ডের সাবান ও বিস্কুটের প্যাকেটের আকারও ছোট করা হয়েছে।
শিল্পকারখানায় গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত
জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে শিল্প খাতে। গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বিপুলসংখ্যক শিল্পকারখানা স্বাভাবিক সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।
গ্যাস সংকটে ৯০০টিরও বেশি টেক্সটাইল মিল সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তৈরি পোশাক, ইস্পাত, কাগজ ও সিরামিক শিল্পের অনেক কারখানাও সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদন করছে।
ইস্পাত শিল্পে উৎপাদন কমে যাওয়ায় জ্বালানি ব্যয়ের চাপ আরও বেড়েছে। উৎপাদন কমলেও নির্দিষ্ট কিছু পরিচালন ব্যয় একই থাকায় প্রতি ইউনিট পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।
বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও রতনপুর স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুমন চৌধুরী জানান, বর্তমানে প্রতি টন রডে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।
তার আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ইস্পাত কারখানাগুলোর পক্ষে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
সিমেন্ট শিল্পেও বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে সিমেন্ট শিল্পেও। শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, গত এক মাসে সিমেন্ট উৎপাদন ব্যয় অন্তত ১০ শতাংশ বেড়েছে।
প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক জানান, ভারী যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে গেলে সেগুলো আবার পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বারবার বিঘ্ন ঘটায় গত এক মাস ধরে উৎপাদনকারীদের নিয়মিত এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান তিনি।
বর্ষাকালে সিমেন্টের চাহিদা এমনিতেই কম থাকে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান মেনেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এভাবে দীর্ঘদিন ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে সতর্ক করেন তিনি।
সংকটে প্লাস্টিক ও সিরামিক শিল্পও
গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় প্লাস্টিক ও সিরামিক শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে না পেরে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালাতে বাধ্য হচ্ছে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (মার্কেটিং) কামরুজ্জামান কামাল জানান, লোডশেডিং এবং গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বারবার বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিও ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কখনো পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে, আবার কখনো প্যাকেটের আকার ছোট করতে হচ্ছে।
সংকটের চূড়ান্ত চাপ ভোক্তার ওপর
অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে জ্বালানি সংকটের প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। কারখানায় উৎপাদন কমলে বাজারে সরবরাহ কমে যায়। উৎপাদন ব্যয় বাড়লে পণ্যের দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়। পরিবহন ব্যয় বাড়লেও তার প্রভাব যুক্ত হয় পণ্যের খুচরা মূল্যে।
ফলে একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে মানুষের আয় একই হারে না বাড়ায় সংসারের ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে।
একই সঙ্গে পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে একই দাম রাখা কিংবা দাম বাড়িয়ে দেওয়া—দুইভাবেই ভোক্তাদের ব্যয় বাড়ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় ও উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকলে এই চাপ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এখন শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র বা শিল্পকারখানার সমস্যা নয়। এর প্রভাব সরবরাহব্যবস্থা পেরিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার, পরিবহন, কৃষি ও পোলট্রিসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে। আর এর সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা এবং সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা না গেলে নিত্যপণ্যের বাজারে এই চাপ আরও বাড়তে পারে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করাও জরুরি হয়ে উঠেছে।
পাঠকের মন্তব্য