![]()
বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানি ও ব্যয়—দুইই উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও বাস্তবে তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে জ্বালানি আমদানি বেড়েছে প্রায় ১৩.৬৬ শতাংশ, আর ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৮.৮২ শতাংশ। কিন্তু এই বৃদ্ধির পরও মার্চের শুরু থেকে দেশজুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি ও ঘাটতির চিত্র দেখা যাচ্ছে।
???? কেন এই অসামঞ্জস্য?
প্রথমত, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি একটি বড় কারণ। যদিও পুরো সময়জুড়ে দাম স্থিতিশীল ছিল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তবুও প্রতি টন জ্বালানির আমদানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
দ্বিতীয়ত, জ্বালানি আমদানির ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। ডিজেল ও ক্রুড তেলের আমদানি বাড়লেও ফার্নেস তেলের আমদানি কমেছে। বিশেষ করে ডিজেলের ব্যবহার হঠাৎ বেড়ে যাওয়া অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম এই বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, স্বল্প সময়ে এত বেশি জ্বালানি ব্যবহারের যৌক্তিক ব্যাখ্যা স্পষ্ট নয় এবং বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।
⚠️ সংকটের আসল কারণ: সরবরাহ ব্যবস্থাপনা
বিশ্লেষকদের মতে, সংকটের মূল সমস্যা আমদানিতে নয়, বরং বিতরণে।
পদ্মা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি—এই তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়।
সংকটের ঠিক আগে (২৮ ফেব্রুয়ারি–৬ মার্চ) অস্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়, যা স্বাভাবিক চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ। মাত্র এক সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টন জ্বালানি বাজারে ছাড়া হয়—যা ১৬ দিনের স্বাভাবিক ব্যবহারের সমান।
এই অতিরিক্ত সরবরাহের বড় অংশ কোথায় গেল—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
????️ মজুত ও কারসাজির আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ডিলারদের মাধ্যমে মজুত করা হতে পারে।
ম তামিম বলেন, এত বড় পরিমাণ জ্বালানি স্বল্প সময়ে বিক্রি হওয়া স্বাভাবিক নয়। এটি মজুত বা পাচারের ইঙ্গিত দিতে পারে।
অন্যদিকে ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম মনে করেন, আমদানি ও ব্যয়ের এই পার্থক্য অস্বাভাবিক এবং একটি স্বাধীন নিরীক্ষা জরুরি।
???? সারসংক্ষেপ
- আমদানি বেড়েছে → সংকট হয়নি কমার কথা
- ব্যয় বেড়েছে → কিন্তু দামের বড় পরিবর্তন নেই
- অতিরিক্ত সরবরাহ → হঠাৎ ঘাটতি
- সম্ভাব্য কারণ → মজুত, পাচার, দুর্বল তদারকি
⚡ উপসংহার
পরিসংখ্যান বলছে দেশে জ্বালানির ঘাটতি নেই, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি তার উল্টো। এতে স্পষ্ট—সমস্যা আমদানিতে নয়, বরং ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতায়।
পাঠকের মন্তব্য