![]()
হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের ওপর ‘চরম ধ্বংসযজ্ঞ’ নেমে আসবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এর আগে ইরানকে ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা প্রায় শেষ, এখন হাতে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা।
এদিকে সংঘাতের মধ্যে আরও একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, A-10 Warthog মডেলের একটি যুদ্ধবিমান হরমুজ প্রণালির কাছে পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানের পাইলটকে উদ্ধার করা হলেও একই দিনে ভূপাতিত আরেকটি F-15 Eagle যুদ্ধবিমানের এক ক্রু এখনো নিখোঁজ।
নিখোঁজ কো-পাইলটকে উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে অভিযানে বাধা দিচ্ছে ইরানি বাহিনী। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া UH-60 Black Hawk হেলিকপ্টারের ওপর গুলি চালানো হলেও বড় ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, এক মাস ধরে তারা ইরানের আকাশপথে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। তবে একের পর এক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে না।
ইরানের Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে মার্কিন বিমানগুলো ভূপাতিত করছে। প্রকাশিত ফুটেজে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল এবং উন্নত ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ও ইনফ্রারেড ট্র্যাকিং প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েলের Tel Aviv শহরে কিরিয়া সামরিক ঘাঁটির কাছে ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে আশপাশের অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে।
একই সময়ে ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে এসব হামলা চালিয়েছে।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, ‘জরুরি পণ্য’ বহনকারী জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে খোলা রাখা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ বহাল থাকতে পারে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
পাঠকের মন্তব্য