![]()
গত মাসে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ইরানের ড্রোন হামলা আগের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই ঘটনা ইরানের সক্ষমতাকেই প্রমাণ করছে, যা সৌদি আরবে ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম।
হামলাটি ৩ মার্চ ঘটেছিল। একটি ইরানি ড্রোন রিয়াদের সুরক্ষিত ‘ডিপ্লোম্যাটিক কোয়ার্টার’ পার করে সরাসরি আমেরিকান কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এক মিনিট পর প্রথম ড্রোনের তৈরি গর্ত দিয়ে দ্বিতীয় একটি ড্রোনও প্রবেশ করে এবং সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। হামলাটি এমন একটি স্থানে সংঘটিত হয় যেখানে দিনের বেলায় শতাধিক মানুষ কাজ করেন।
বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিন তলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) স্টেশনও ছিল। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথমে হামলার ক্ষয়ক্ষতি সীমিত বলে জানিয়েছিল, তবে কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ ছিল। আগুন প্রায় অর্ধেক দিন ধরে জ্বলেছিল এবং দূতাবাসের কিছু অংশ মেরামত অযোগ্য হয়ে গেছে।
হামলার সময় আরও কিছু ড্রোন প্রতিহত করা হয় এবং ধ্বংসাবশেষ প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, একটি ড্রোনের লক্ষ্য ছিল সৌদিতে নিযুক্ত শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিকের বাসভবন, যা দূতাবাস থেকে কিছুই দূরে অবস্থিত। হামলাটি রাত ১:৩০ মিনিটে ঘটেছিল; যদি এটি কর্মঘণ্টার মধ্যে হতো, ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারত।
সাবেক সিআইএ কাউন্টার-টেররিজম প্রধান বার্নার্ড হাডসন বলেছেন, ইরান শত শত মাইল দূর থেকে নিখুঁতভাবে আঘাত করতে সক্ষম, যা প্রমাণ করে তারা শহরের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে। তিনি আরও বলেন, দূতাবাসে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ গোপন রাখা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয়, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
হামলার সময় ধোঁয়া দেখা গেছে এবং মেশিনগানের শব্দ শোনা গেছে। এক বাসিন্দার ধারণকৃত ভিডিওতে লক্ষ্যবস্তুতে গুলি চালানোর দৃশ্য ধরা পড়ে। ইরান মার্চের শেষের দিকে আবারও সৌদির প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানল, যেখানে রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার ও ই-থ্রি অ্যাওয়াক্স রাডার বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং কিছু সেনা আহত হয়েছেন।
এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রায় ২০ হাজার বিমান হামলা চালিয়েছে, ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা, সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস, এবং বিভিন্ন কারখানা তছনছ করেছে। তারপরও ইরান গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দর ও জাহাজে হামলার ক্ষমতা বজায় রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আরও দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাগদাদ, দুবাই, কুয়েত সিটি, রিয়াদ ও ইরাকি কুর্দিস্তানের ইরবিলে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেট লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। হামলায় সাতজন মার্কিন সেনা নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন, পাশাপাশি বিমান ও সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি কয়েক বিলিয়ন ডলার।
নিরাপত্তার কারণে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দূতাবাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে সৌদি আরবে থাকা মার্কিন নাগরিকদের বড় হোটেল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবে মার্কিন সম্পদগুলোতে ইরানের আঘাত সরকারের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে, যখন বেশ কিছু আমেরিকান কোম্পানি তাদের অফিস কয়েক দিন বন্ধ রাখে। রিয়াদের মার্কিন দূতাবাসের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা নেই; নিরাপত্তার জন্য তারা সৌদি বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল। প্যাট্রিয়ট সিস্টেম ব্যবহার করে ডিপ্লোম্যাটিক কোয়ার্টার পর্যন্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।
পাঠকের মন্তব্য