![]()
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, উদ্বেগের মধ্যে হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। চলতি বছরে বিভিন্ন জেলায় এই সংক্রমণে অন্তত ৩৪ শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেওয়া শিশুদের মধ্যে ১৫ জন মারা গেছে। অন্যান্য জেলা ও হাসপাতালে মৃত্যুর সংখ্যা যথাক্রমে: বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট ৬, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৪ এবং রাজশাহী, পাবনা ও গোপালগঞ্জে ১ জন করে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক হালিমুর রশীদ জানান, দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৬৭৬ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর অপুষ্টি, টিকাদান ব্যবস্থার ঘাটতি, ২০২৫ সালে টিকাদানের কম হার এবং বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া মূল কারণ।
ইপিআই’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হামের টিকাদানের কাভারেজ মাত্র ৫৭.১ শতাংশ ছিল, যা গত ৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত এমআর-১ ও এমআর-২ টিকার কাভারেজ প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও ২০২৫ সালে তা ৬০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজীর আহমেদ বলেন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ৯০–৯৫ শতাংশ টিকাদান কাভারেজ প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমানে তা অনেক জায়গায় ৭০ শতাংশের নিচে।
ডা. তাজুল ইসলাম সতর্ক করেছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক; একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে গড়ে ১৮ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে। তাই শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা দেওয়া এবং অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদান কাভারেজ নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে প্রথম ডোজের কাভারেজ ৮৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ ৮২ শতাংশ, অর্থাৎ ১৫–২০ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে টিকাদানের হ্রাসের মূল কারণ ছিল সেক্টর প্রোগ্রাম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া। ১৯৯৮ সাল থেকে চলমান প্রোগ্রামটি হঠাৎ বন্ধ হওয়ায় ভ্যাকসিন পরিবহন ও বিতরণে সমস্যা তৈরি হয়। পাশাপাশি, স্পেশাল টিকাদান ক্যাম্পেইনও টাইফয়েড ভ্যাকসিন কর্মসূচির কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জুনের শুরুতে ৬ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার জন্য মাসব্যাপী বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন চালানোর পরিকল্পনা করছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আক্রান্ত শিশুদের আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা, আইসোলেশন, হাসপাতালের পৃথক ওয়ার্ড, স্কুল ও ডে-কেয়ারে সতর্কতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত জাতীয় চিকিৎসা গাইডলাইন প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। তাজুল ইসলাম জানান, নতুন টিকা দিলে সাধারণত ১০ দিনের মধ্যে শরীরে ইমিউনিটি তৈরি হয়, আগে টিকা নেওয়া থাকলে ৫–৬ দিনের মধ্যে সুরক্ষা হয়। তাই দ্রুত শিশুকে টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি, নইলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।
পাঠকের মন্তব্য