![]()
বাংলাদেশের পুরুষ কম্পাউন্ড আর্চারি দল এশিয়া কাপ আর্চারিতে চমকপ্রদ সাফল্য দেখিয়েছে। আজ সেমিফাইনালে ভুটানকে ২৩২–২২৮ পয়েন্টে হারিয়ে তারা ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি অন্তত একটি রৌপ্য পদক নিশ্চিত করেছে।
লাল-সবুজ প্রতিনিধির এই কীর্তি গড়েছেন হিমু বাছাড়, ঐশ্বর্য রহমান এবং নেওয়াজ আহমেদ। কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়াকে হারানোর পর পুরুষ দল সেমিফাইনালে পা রেখেছিল। এই সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০২১ সালের চীনের গুয়াংজুতে হওয়া এশিয়া কাপের স্মৃতি নতুনভাবে উজ্জীবিত করল, যেখানে তখন তারা রৌপ্য পদক জিতেছিল এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ফাইনালে হারেছিল।
সেমিফাইনালের জয় বাংলাদেশের কাছে একদিকে আনন্দের, অন্যদিকে উদ্দীপনারও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার হিমু, ঐশ্বর্য ও নেওয়াজের লক্ষ্য সোনার পদক। ফাইনালে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হবে শক্তিশালী ভিয়েতনাম, যাদের বিরুদ্ধে লড়াই হবে মেগা শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে।
অন্যদিকে নারী কম্পাউন্ড দলকে আজ কিছুটা আক্ষেপের মুখোমুখি হতে হয়েছে। শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে আয়োজক দেশ থাইল্যান্ডের সঙ্গে মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে হেরেছে তারা। বাংলাদেশ নারী দল ২২৯ স্কোর করলেও থাইল্যান্ড ২৩০ পয়েন্ট তুলে ফাইনালে স্থান পেয়েছে। নারী দলের হয়ে লড়েছেন বন্যা আক্তার, ঝুমা আক্তার ও কুলসুম আক্তার, যারা দারুণ পারফরম্যান্সের সঙ্গে লড়াই চালিয়েছেন, তবুও সাফল্য ছুঁতে পারেননি।
পুরুষ রিকার্ভ দলও দারুণ শুরু করেছিল। আবদুর রহমান আলিফ, রাকিব মিয়া ও রামকৃষ্ণ সাহা নিয়ে গড়া এই দল শক্তিশালী ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে চমক দেখিয়েছে, তবে শেষ আটের ম্যাচে কাজাখস্তানের বিপক্ষে ৬–০ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।
সংগঠকরা এবং প্রশিক্ষকরা দলের সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিশেষ করে পুরুষ কম্পাউন্ড দলের সাফল্য দেশের আর্চারির জন্য গর্বের। ফাইনালে বাংলাদেশ ভিয়েতনামের সঙ্গে লড়াইয়ে না জিতলেও রৌপ্য পদক নিশ্চিত হওয়ায় আর্চারির মানসিক ও কৌশলগত উন্নয়ন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দেশবাসীও এই সাফল্যকে উদযাপন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলোয়াড়দের প্রশংসা, ফাইনালের উত্তেজনা এবং ভবিষ্যৎ সাফল্যের আশা শেয়ার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশন জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ, মানসিক প্রস্তুতি ও দলের একতা ফাইনালে বড় ভূমিকা রাখবে। তাদের উদ্দেশ্য আগামী দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী সাফল্য এনে দেশের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্ষেত্রে নতুন গৌরব স্থাপন করা।