![]()
দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে উঠে আসছে ‘মামলা বাণিজ্য’ ও প্রতিশোধের রাজনীতি। এই প্রেক্ষাপটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এই সংস্কৃতি থেকে সরে আসার জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার বিকেলে বিজয়নগর উপজেলা-র বুধন্তী ইউনিয়নের ইসলামপুরে নিজ গ্রামে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গ্রামবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত এই আয়োজনেই উঠে আসে তার কঠোর অবস্থানের বার্তা।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যে ফুটে ওঠে একটি গভীর উদ্বেগ—মামলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এক ধরনের অস্বাস্থ্যকর অর্থনৈতিক ও সামাজিক চক্র। তার ভাষায়, একটি মামলায় শত শত মানুষের নাম জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, মিথ্যা অভিযোগ এনে অর্থ আদায় করা হচ্ছে, এমনকি মামলা থেকে নাম বাদ দিতেও নেওয়া হচ্ছে টাকা। এই প্রবণতা শুধু ব্যক্তি নয়, সমাজের ন্যায়বিচারের ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে কার্যকরভাবে কেউ কথা বলেননি। অথচ এই অনিয়ম ধীরে ধীরে এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তার মতে, এখনই সময় এই চক্র ভাঙার।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিও তিনি সরাসরি বার্তা দিয়েছেন। থানায় কোনো মামলা এলে তা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা যেন কোনোভাবেই গ্রহণ না করা হয়। কারণ একটি ভুল সিদ্ধান্ত একজন নিরপরাধ মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে গ্রেপ্তারের পর নতুন করে মামলা জুড়ে দেওয়ার অভিযোগ, যা অনেকের জন্য নতুন করে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে এর পরিণতি শুভ হবে না। কোথাও না কোথাও এই প্রবণতাকে থামাতে হবে।
প্রতিশোধের রাজনীতির বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিশোধ নেওয়ার যে চক্র—এক দল পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করে, পরে অন্য দল এসে একই কাজ করে—এই ধারাকে তিনি বিপজ্জনক বলে মনে করেন। তার মতে, এই চক্র ভাঙা না গেলে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে স্থিতিশীলতা আসবে না।
তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করে বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অবশ্যই নিতে হবে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এই বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং একটি মানবিক আহ্বান—ন্যায়বিচারকে প্রভাবমুক্ত রাখা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং সমাজে আস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান।
পাঠকের মন্তব্য