![]()
বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র প্রস্তুতকারী ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত রাজস্ব ২০২৪ সালে প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ৬৭৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি) সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সিপ্রি জানায়, ২০১৫ থেকে ২০২৪—এক দশকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর অস্ত্র রাজস্ব ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রির বৃদ্ধিই মূলত এই উল্লম্ফনের কারণ।
রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন (২০২২) এবং ইসরায়েল–গাজা সংঘাত (২০২৩) ন্যাটো ও অন্যান্য দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে বাধ্য করেছে। ২০২৪ সালে মস্কো তার জিডিপির ৭ শতাংশেরও বেশি সামরিক খাতে ব্যয় করেছে, চীনও সামরিক আধুনিকায়নে বড় বিনিয়োগ করেছে। উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্ত্র কর্মসূচি ও ইউরোপীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং ন্যাটো সদস্য দেশগুলোও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কোম্পানির অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ৩৯টি কোম্পানির মোট রাজস্ব ৩.৮ শতাংশ বেড়ে ৩৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা শীর্ষ ১০০ কোম্পানির মোট আয়ের প্রায় অর্ধেক। শীর্ষ চার প্রতিষ্ঠান—লকহিড মার্টিন, আরটিএক্স, নর্থরপ গ্রুম্যান ও জেনারেল ডায়নামিকস—সবই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক। লকহিড মার্টিনের ৩.২ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ ছিল এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহ।
ইউরোপীয় ২৬টি দেশের শীর্ষ কোম্পানির সম্মিলিত রাজস্ব ১৩ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিএই সিস্টেমস এবং ইতালিয়ান লিওনার্দো কোম্পানি ২০২৪ সালে যথাক্রমে ১৩ ও ১০ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধিতে সক্ষম হয়েছে। এরা যৌথভাবে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান উন্নয়নে কাজ করছে।
এশিয়া, ওশেনিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য
এশিয়া ও ওশেনিয়ার ২৩টি কোম্পানির মোট রাজস্ব ১.২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, মূলত চীনের বিক্রি কমে যাওয়ায়। রাশিয়ার দুটি কোম্পানির রাজস্ব বেড়ে ২৩ শতাংশে পৌঁছেছে, প্রায় ৩১.২ বিলিয়ন ডলার। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নয়টি কোম্পানির রাজস্ব ১৪ শতাংশ বেড়েছে।
ইসরায়েলের তিনটি শীর্ষ কোম্পানির রাজস্ব ১৬ শতাংশ বেড়েছে, যা গাজা যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে। চেকোস্লোভাক গ্রুপ ও স্পেসএক্সের রাজস্বও ২০২৪ সালে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য
সিপ্রির গবেষক জেড গুইবার্তো রিকার্ড বলেন, “ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ওপর নির্ভরতা পুনরায় সশস্ত্র হওয়া পরিকল্পনাকে জটিল করছে।”
দিয়েগো লোপেস দা সিলভা বলেন, “নিষেধাজ্ঞা ও রুশ কোম্পানির দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি উৎপাদন ধীর করতে পারে এবং উদ্ভাবন সীমিত করতে পারে।”
পাঠকের মন্তব্য