![]()
করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে অনলাইনে পণ্য কেনাকাটায় ভোগান্তি দেখে প্রচলিত ডেলিভারি পদ্ধতি বদলানোর চিন্তা করেন উদ্যোক্তা রেজওয়ানুল হক জামি। ২০২২ সালে আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাসার গ্যারেজে কাঠ দিয়ে তৈরি করেন প্রথম ডিজিটাল লকার—এতে সফলতা পেয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ে।
ঠিক ওই সময় গুলশানের এক চায়ের দোকানে দেখা হয় পুরোনো সহকর্মী মোরশেদুল আলমের সঙ্গে। আড্ডায় স্টার্টআপ ধারণা শোনান জামি, জানান ডিজিটাল লকারে পাওয়া সফলতার কথা। দু’জনের ভাবনা এক হলে সেদিনই যাত্রা শুরু হয় ‘ডিজিবক্স’–এর।
৩০ লাখ টাকা প্রাথমিক বিনিয়োগে পাঁচটি ডিজিটাল লকার স্টেশন দিয়ে শুরু করা উদ্যোগটি এখন পর্যন্ত আড়াই কোটি টাকা মুনাফা করেছে। তবে লাভের অর্থ তাঁরা পুনর্বিনিয়োগ করছেন অফিস পরিচালনা ও নতুন লকার তৈরি করতে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের কর্মী সংখ্যা ৩১ এবং দেশে ৫৫টি স্থানে রয়েছে ডিজিবক্স স্টেশন—যেখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বক্স সক্রিয়। শুধু ঢাকাতেই রয়েছে ৩৬টি স্টেশন। রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, সিলেট ও চট্টগ্রামেও সেবা চালু আছে। সাত লাখের বেশি গ্রাহক ইতোমধ্যে লকার থেকে সেবা নিয়েছেন। ঢাকার সব মেট্রো স্টেশনেও আছে তাদের লকার সুবিধা; প্রতিটি স্টেশন দিনে গড়ে ৩০০ গ্রাহককে সেবা দিতে পারে।
ডিজিবক্সের সিইও রেজওয়ানুল হক জানান, ভবিষ্যতে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও আফ্রিকায় সেবা বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী মাসে ‘বক্স টু বক্স’ সেবা চালুর প্রস্তুতি চলছে। ডিসেম্বরে মোহাম্মদপুরে উদ্বোধন হবে ‘ডিজি প্লাজা’, যেখানে ক্যামেরা ভিশন প্রযুক্তিতে ২৪ ঘণ্টাই পণ্য ডেলিভারি পাওয়া যাবে।
গ্রাহকরা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লকার থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। ডেলিভারি খরচ ২২ থেকে ৪৫ টাকা, তবে এটি দারাজে অর্ডার করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। দারাজ অর্ডার করার সময় ‘ডিজিবক্স’ অপশন বেছে নিলে ডেলিভারিম্যান নিকটস্থ লকারে পণ্য রেখে যাবে। গ্রাহক এসএমএসে পাওয়া ওটিপি কোড দিয়ে স্ক্রিনে তথ্য দিলে বক্স খুলে যাবে।
ই–কমার্স বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চাইলে বিনা খরচে ডিজিবক্সে নিবন্ধন করতে পারে। বর্তমানে দারাজ ছাড়াও ব্র্যাক ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, থাউজেন্ড ফিক্স ও অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এই সেবা ব্যবহার করছে।
ডিজিবক্সের চেয়ারম্যান মোরশেদুল আলম বলেন, দেশের ই–কমার্স বাজার প্রায় ৭৫ কোটি ডলার এবং ডেলিভারি বাজার ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ ডেলিভারি হয়। তাঁদের লক্ষ্য—২০২৮ সালের মধ্যে দৈনিক ৫০ হাজার ডেলিভারি নিশ্চিত করা।
পাঠকের মন্তব্য