![]()
ওয়াশিংটন ডিসিতে দুইজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন দেশে সব ধরনের আশ্রয় (Asylum) আবেদন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। ফলে কোনো আবেদন আর অনুমোদন, বাতিল বা বন্ধ—কোনো ধরনের সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
ঘোষণাটি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)-এর পরিচালক জোসেফ এডলো। শুক্রবার এক্স প্ল্যাটফর্মে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন—
“যতক্ষণ না আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে প্রতিটি বিদেশি সর্বোচ্চ মাত্রায় যাচাই ও পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।”
ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা: ‘সব তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত’
এই সিদ্ধান্ত আসে কয়েক ঘণ্টা পর, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন—
“যুক্তরাষ্ট্রে সব তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করা হবে।”
কোন কোন দেশকে “তৃতীয় বিশ্ব” হিসেবে বিবেচনা করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে এই ঘোষণাকে ঘিরে আলোচনার ঝড় উঠেছে, কারণ এই পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে এর বিরোধিতা করছে।
ওয়াশিংটন ডিসির ঘটনা: এক ন্যাশনাল গার্ড সদস্য নিহত, অন্যজন আশঙ্কাজনক
বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে গুলিবিদ্ধ দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের একজন মারা গেছেন। নিহতের নাম সারা বেকস্ট্রম (২০)। গুরুতর অবস্থায় লড়ছেন অ্যান্ড্রু উলফ (২৪)।
ট্রাম্প প্রশাসনের অপরাধ দমন অভিযানের অংশ হিসেবে তারা ডিসিতে মোতায়েন ছিলেন।
আক্রমণের সন্দেহভাজন রহমানুল্লাহ লাখানওয়াল—একজন আফগান নাগরিক—২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন এবং বিশেষ অভিবাসন সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় তিনি শরণার্থী নিরাপত্তা পেয়েছিলেন। সিআইএ নিশ্চিত করেছে, তিনি পূর্বে সংস্থাটির সঙ্গে কাজ করেছিলেন।
USCIS কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশ: ‘সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছালে থামুন’
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির নির্দেশনা অনুযায়ী—
-
আশ্রয় আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে,
-
কিন্তু সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পর্যায়ে গেলে তা স্থগিত রাখতে হবে।
USCIS নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে—
“Once at the decision stage, stop and hold.”
ট্রাম্প প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ
ওয়াশিংটনের ঘটনার পর প্রশাসন যে কয়েকটি কঠোর অভিবাসন পদক্ষেপ নিয়েছে—
-
অবৈধভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের গণহারে বহিষ্কারের ঘোষণা
-
শরণার্থী গ্রহণের বার্ষিক কোটা ব্যাপকভাবে কমানোর উদ্যোগ
-
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিয়ে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বাতিলের প্রস্তাব
-
১৯টি দেশের অভিবাসীদের দেওয়া গ্রিন কার্ড পুনরায় যাচাই করার প্রক্রিয়া
USCIS বলছে, গ্রিন কার্ড পুনঃপর্যালোচনার কারণ হিসেবে সরাসরি ডিসির হামলাকে উল্লেখ না করলেও এটি নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়নের অংশ।
ট্রাম্পের কঠোর ভাষার পোস্ট: ‘অ-নাগরিকদের সব সুবিধা বন্ধ’
ট্রুথ সোশালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন—
“অ-নাগরিকদের সব ফেডারেল সুবিধা ও ভর্তুকি বন্ধ করা হবে।”
তার ভাষ্য মতে, এটি “আমেরিকার ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের” অংশ।
জাতিসংঘ ও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
জাতিসংঘ ট্রাম্প প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়ে বলেছে—
“আপনাদের শরণার্থীদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে।”
অন্যদিকে আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন বলছে—
“একটি অপরাধকে পুরো অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর দোষ চাপানো অমানবিক ও বিপজ্জনক।”
লাখানওয়ালের গ্রামের আত্মীয়রা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আফগান সম্প্রদায় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে—
“এই হামলা আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে না।”
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল—সূত্র জানালেন
লাখানওয়ালের শৈশবের এক বন্ধু নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন—
মার্কিন সেনাদের সঙ্গে কাজ করার পর তিনি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন।
২০২৪ সালে তাঁর আশ্রয় আবেদন অনুমোদিত হয়, তবে গ্রিন কার্ড এখনও মুলতুবি।
বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে আছেন, এবং তদন্তে সহযোগিতা করছেন না।
পাঠকের মন্তব্য