![]()
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আছে, যা কেবল পরিসংখ্যান নয়—মানবিক দৃঢ়তা, শ্রম, শৃঙ্খলা এবং আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে থাকে। ঠিক তেমনই এক আবেগঘন মুহূর্ত সামনে এনে দাঁড়িয়েছে মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টটি এখন আর কেবল একটি সিরিজ ম্যাচ নয়—এটি রূপ নিয়েছে মুশফিকুর রহিম নামের এক নিবেদিত ক্রিকেট যোদ্ধার মানবিক গল্পের অমর সাক্ষ্যে।
বাংলাদেশের হয়ে শততম টেস্ট খেলতে নামছেন মুশফিক। একটি দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এমন অর্জন শুধু সংখ্যার গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের পরিশ্রম, প্রতিদিনের লড়াই, এবং এক জীবনের প্রতিশ্রুতির চিত্র তুলে ধরে। তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি ইনিংস ছিল কঠোর অধ্যবসায়ের এক উজ্জ্বল উদাহরণ—যা নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য এক মানবিক অনুপ্রেরণা।
শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড কোচ হাইনরিখ মালানও মুশফিকের এই যাত্রার সাক্ষী হয়ে তার নিবেদন দেখে বিস্মিত। সোমবার মিরপুরে অনুশীলনের সময় তিনি যে গল্প বললেন, তা কেবল একজন ক্রিকেটারের রুটিন নয়—একজন মানুষের আপসহীন পরিশ্রমের প্রতিচ্ছবি:
“প্রতিদিন সকাল ৬:৪৫-এ তাকে হোটেলে নাস্তা করতে দেখি। সবার আগে বাসে ওঠে, সবার আগে মাঠে আসে—ওয়ার্ম-আপ, স্ট্রেচিং, ব্যাটিং—সবই অন্যদের আগে শুরু করে।”
মালানের চোখে এটি কেবল শৃঙ্খলা নয়—মানবিক অধ্যবসায়ের প্রতিকৃতি।
আয়ারল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসে মাত্র ১০টি ম্যাচ। সেখানে দাঁড়িয়ে তারা উপলব্ধি করে মুশফিকের মতো একজন ক্রিকেটারকে ১০০ টেস্টে পৌঁছানো কতটা কঠিন। মালান বলেন—
“১০০টি টেস্ট দেশের হয়ে খেলা একটি বিশাল অর্জন। এর পেছনে যতটা ধৈর্য, ততটাই কঠোর পরিশ্রম। আমরা কেবল ১০টি টেস্ট খেলেছি, তাই এ অর্জনের মর্ম আমরা আরও গভীরভাবে বুঝি।”
মালানের এই অনুভব ক্রিকেটের বাইরে মানবিক সম্মান ও শ্রদ্ধার বন্ধন তৈরি করে।
বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জিতে সিরিজে এগিয়ে থাকলেও, দ্বিতীয় টেস্টে সবার নজর এখন মুশফিকের মানবিক যাত্রার মাইলফলকে। তার ক্যারিয়ারজুড়ে অসংখ্য কঠিন সময়, ইনজুরি, সমালোচনা—সবকিছু পেরিয়ে আজ তিনি দাঁড়িয়েছেন এক দৃঢ় মানবিক প্রতিচ্ছবি হয়ে।
এই সময়টিতে মুশফিক কেবল একজন ক্রিকেটার নন—একটি দেশকে প্রেরণা দেওয়ার প্রতীক।
শততম টেস্ট তাই শুধু একটি ম্যাচ নয়, এটি এক মানুষের জীবনভর লড়াই, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং জাতিকে গর্বিত করার অবিরাম চেষ্টার মানবিক উদযাপন।
পাঠকের মন্তব্য