![]()
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মূল বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রোববার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই আগুনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুনে জুতার দোকান, খাবারের হোটেল, কসমেটিকস, কাপড়, মুদিমাল ও স্বর্ণের দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃষ্টিতে নেভে আগুন
স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার প্রায় এক ঘণ্টা পর (রাত ১টা ৩৮ মিনিটে) আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার মতো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করে।
সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়। তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বাজারসংলগ্ন বসতবাড়িগুলোতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ফায়ার সার্ভিসের ব্যাখ্যা
খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান,
“রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে আমরা আগুন লাগার খবর পাই। সঙ্গে সঙ্গে দুটি ইউনিট রওনা দেয়। তবে সরু সড়ক, স্পিড ব্রেকার এবং প্রবল বৃষ্টির কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হয়।”
তিনি আরও জানান,
“রাত ১টা ৩০ মিনিটে আমাদের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পানির উৎস না থাকায় কার্যকরভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করা যায়নি। পরে মাটিরাঙা উপজেলা থেকে এক হাজার লিটার পানির ট্যাংকার পাঠানো হয়। তবে ততক্ষণে বৃষ্টির পানিতেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।”
আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও আতঙ্ক
বাজারের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, এলাকায় স্থায়ী পানির উৎস না থাকা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার অভাবে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বাজার এলাকায় একটি স্থায়ী অগ্নিনির্বাপণ পানির ট্যাংক ও উপকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
পাঠকের মন্তব্য