ফেনীর সোনাগাজীতে ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দেশব্যাপী বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি)। প্রকল্পটি ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।
৭১৫ একর জমিতে নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ইজিসিবি ১ হাজার ৮৮৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আইডিবির ঋণ সহায়তা রয়েছে ১ হাজার ৬২৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, সরকার ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন যথাক্রমে ১৪৭ কোটি ৫৬ লাখ এবং ১১৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প শক্তি বিভাগে আগামীকাল (রোববার) এই প্রকল্প নিয়ে পর্যালোচনা সভা (পিইসি) অনুষ্ঠিত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অনুমোদন পেলে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হবে।
সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বৈশিষ্ট্য
প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের মোট বিদ্যুতের ১০ শতাংশ উৎপাদন লক্ষ্য অর্জন করা হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে থাকবে:
-
৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬০টি সোলার পিডি মডিউল
-
২৬টি গ্রিড কানেক্টেড ইনভার্টার
-
২৪০ এমভি ক্ষমতার বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন
-
চারটি ২৩০/২৩৩ কেভি ট্রান্সফরমার ও অক্সিলিয়ারি ট্রান্সফরমার
-
২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইনের ১৩.৩ কিলোমিটার দ্বিতীয় সার্কিট
-
বেজা সাবস্টেশনে জিআইএস বে এবং ইজিসিবির ৭৫ মেগাওয়াট সাবস্টেশনে এআইএস বে
-
৬.৮৯ কিলোমিটার পানিরোধক বাঁধ (ডাইক) এবং ২.৬৭ কিলোমিটার দক্ষিণ ডাইকে সিসি ব্লক
-
কন্ট্রোল রুম ও পাঁচতলা ডরমিটরি ভবন
প্রকল্পের পেছনের ইতিহাস ও লক্ষ্য
২০১৭ সালে সোনাগাজীর পূর্ব বড়ধলী এলাকায় ১,০০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। প্রথমে ২৮৫ একরে ৭৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। বাকি ৭১৫ একরে এই ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের দ্বিতীয় দফার পিইসি সভার লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২২০ মেগাওয়াট থেকে ২৫০ মেগাওয়াটে বৃদ্ধি করা সম্ভব কিনা তা যাচাই করা। কারণ উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ অলসভাবে পড়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ।
ইজিসিবির অন্যান্য প্রকল্প
ইজিসিবি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পূর্ণ হয়েছে:
-
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ৩৩৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র
-
সিদ্ধিরগঞ্জ ২৪০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট
-
সোনাগাজী ৭৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র
-
হরিপুর ৪১২ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র
পাঠকের মন্তব্য