চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে এসে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। পাঁচটি অনুষদ ভবনে স্থাপিত কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদ ভবনের দায়িত্বে থাকা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এস. এম. শরিফুজ্জামান বলেন,
“নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছেন।”
ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। তবে কেউ যদি চারটার আগে লাইনে দাঁড়ান, তাঁকে ভোট দিতে সুযোগ দেওয়া হবে।
ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ
ভোটের দিনের শুরুটা হয় শাটল ট্রেনের বাঁশিতে। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ক্যাম্পাসে পৌঁছায় দিনের প্রথম শাটল ট্রেন। ট্রেনভর্তি শিক্ষার্থীদের মুখে আনন্দের ছাপ— কেউ ইতিহাসের সাক্ষী হতে, কেউ প্রিয় প্রার্থীকে ভোট দিতে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী উম্মে হুমাইরা বলেন,
“৩৫ বছর পর আমাদের চাকসু নির্বাচন— এটা যেমন গর্বের, তেমনি দায়িত্বেরও। যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চাই।”
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী পারমিতা চক্রবর্তী বলেন,
“আজ কোনো ক্লাস নেই, পরীক্ষা নেই— আজ ইতিহাস তৈরি হচ্ছে। তাই এসেছি ভোটার হিসেবে।”
ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ
পদার্থবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলমগীর ও এজাজুল হক বলেন,
“চাকসু নির্বাচন নিয়ে অনেক দিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম। ভোট দিতে পেরে দারুণ লাগছে।”
আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, প্রচারের সময় যেমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল, ভোটের দিনও তা অব্যাহত রয়েছে।
কেন্দ্রগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র যাচাই করে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন।
ভোটার ও প্রার্থীর সংখ্যা
চাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ২৭,৫১৬ জন, এর মধ্যে ছাত্রী ১১,১৫৬ জন।
এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯০৮ প্রার্থী—
-
কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬ পদে ৪১৫ জন
-
১৪টি হল ও ১টি হোস্টেলের ৪৯৩ জন
কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৪ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ২২ জন, সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদেও ২২ জন।
৩৫ বছর পর ইতিহাস
১৯৯০ সালের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি প্রথম চাকসু নির্বাচন। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রসংগঠনগুলোর দাবির মুখে অবশেষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রশাসন, ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাই আজ উৎসবের আবহ।
ক্যাম্পাসজুড়ে এখন ভোটের রঙ, ব্যানার-পোস্টার আর ছাত্রদের প্রাণের উচ্ছ্বাসে মুখর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
সারাংশে
চবির চাকসু নির্বাচন শুধু ভোট নয়— এটি প্রজন্মান্তরের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, গণতান্ত্রিক চর্চা ও আত্মপরিচয়ের উৎসব।
পাঠকের মন্তব্য