![]()
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালয়েশিয়া সফরে অভিবাসন ও বিনিয়োগ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, আগামীকাল সোমবার প্রধান উপদেষ্টা তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। এই সফরকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, সফরে বেশ কয়েকটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হবে, যা মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। সফরের মূল ফোকাস থাকবে অভিবাসন বিষয়ক আলোচনা, আর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে বিনিয়োগ।
রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জনশক্তি খাতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। বাংলাদেশ এমনভাবে অভিবাসন খাতকে এগিয়ে নিতে চায় যাতে মালয়েশিয়া থেকে সর্বাধিক সংখ্যক কর্মী নেওয়া হয়। এ বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি কিছু চুক্তিও স্বাক্ষরিত হবে। তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ার বড় বড় কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গেও বৈঠক হবে।
সফরের দ্বিতীয় দিনে, ১২ আগস্ট, একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন প্রধান উপদেষ্টা মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি কেবাংসান (ইউকেএম) থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি গ্রহণ করবেন, যেখানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি, পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে। এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক শাহ আসিফ রহমান জানান, ১১ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত এই সফরটি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলও সফরে অংশ নেবেন। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুন।
সফরের প্রথম দিন প্রধান উপদেষ্টাকে গার্ড অব অনারের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হবে। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুসন ইসমাইল তাকে গ্রহণ করবেন। ১২ আগস্টের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনা এবং বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। সম্ভাব্য সমঝোতার মধ্যে রয়েছে—প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, এলএনজি ও পেট্রোলিয়াম সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত জ্বালানি সহযোগিতা, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং মালয়েশিয়ার ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (আইএসআইএস)-এর মধ্যে সহযোগিতা, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই) ও মিমোস (এমআইএমওএস)-এর সহযোগিতা এবং এফবিসিসিআই ও মালয়েশিয়ার ব্যবসায়িক চেম্বারের মধ্যে চুক্তি। এছাড়া হালাল ইকোসিস্টেম, দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমি এবং উচ্চশিক্ষা খাতে সহযোগিতা বিষয়েও নথি বিনিময় হতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমই প্রথম কোনো দেশের সরকার প্রধান হিসেবে বাংলাদেশ সফর করেন। প্রায় এক দশক পর গত অক্টোবরে মালয়েশিয়ার সরকার প্রধানের এ সফর অনুষ্ঠিত হয়।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর একটি সংবাদ সম্মেলন এবং রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হবে। একই দিনে প্রধান উপদেষ্টা একটি ব্যবসায়িক ফোরামে অংশ নেবেন এবং মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন। বৈঠকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন কর্মী নিয়োগ, পেশাদার কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের পাশাপাশি গভীর সমুদ্রের সঠিক ব্যবহার, কৃষি ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
পাঠকের মন্তব্য