![]()
ইবি রিপোর্ট
চাঁদাবাজি, মাস্তানি, জমি দখল ও সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সোমবার (২ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী। সভায় তিনি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময়কার পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং শ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার একটি কঠিন সংকটের মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহেও নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীনির্ভর জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের কলকারখানা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব পড়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, সার ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে পরিকল্পিতভাবে উসকানি এবং অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তাঁর দাবি, পরাজিত শক্তি দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। দেশের অভ্যন্তরেও কিছু রাজনৈতিক শক্তি নতুন সরকারকে চাপে ফেলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
বিএনপির ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সেই লড়াইয়ের চেতনা থেকেই সরকার গণতান্ত্রিক সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের নীতিতে দেশ পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ চলছে।
দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের বিকাশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে উসকে দিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা চলছে। এর পেছনে পতিত শক্তি ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। তাঁর দাবি, আগের দিন ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন পোস্ট ও বক্তব্য সামনে এসেছে। তাঁর মতে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিষয় সংসদে কিংবা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হলেও সে পথে না গিয়ে লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র আট মাস। এই সময়ের মধ্যে সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য কাজ করছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং বিদেশি বিনিয়োগ আনার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের বিষয়গুলো উপেক্ষা করে অপপ্রচারের মাধ্যমে নানা বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। যারা বিপ্লবের কথা বলছেন, তাঁদের অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিএনপি গণতন্ত্র ও নিজস্ব নীতি-আদর্শের জন্য ১৭ বছর প্রকাশ্যে আন্দোলন করেছে। এ আন্দোলনে অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন এবং রক্ত ঝরেছে।
রিজভীর ভাষ্য, পরাজিত শক্তি পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও উসকানি দিচ্ছে। তাদের প্ররোচনায় কেউ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে সেটি সংশ্লিষ্টদের জন্যও মঙ্গলজনক হবে না।
বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় ফেলে চোরাপথে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রিজভী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রকামী এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। জনগণের ভোটেই বিএনপি ও তার জোট ক্ষমতায় এসেছে। পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের পর বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ ও কল্যাণে কাজ করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উন্নত, সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।
পাঠকের মন্তব্য