![]()
ইবি রিপোর্ট
প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ, প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স নিষিদ্ধ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদিত বইয়ের বাইরে অতিরিক্ত পাঠ্যবই চাপানো বন্ধের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পাঁচ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করার কথা জানিয়েছেন নোটিশদাতা আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং এনসিটিবির চেয়ারম্যানের কাছে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলককরণ) আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন, গণমুখী ও বাধ্যতামূলক করার নীতি রয়েছে। তবে বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষাকে ঘিরে বাণিজ্যিক প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশ অনুযায়ী, তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো একাধিক স্তরে ভর্তি করানো হচ্ছে। এতে তাদের ওপর পড়াশোনা ও বইয়ের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের চাপ শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব, মানসিক বিকাশ ও সৃজনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সরকার অনুমোদিত একক প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু রেখে অননুমোদিত কোর্সগুলো নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক স্তরে শিশুদের লিখিত পরীক্ষা, স্ক্রিনিং টেস্ট ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও নোটিশে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, অল্প বয়সে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার মুখোমুখি হলে শিশুদের মধ্যে ভীতি ও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাসও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে প্রাথমিক স্তরে সব ধরনের ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ করে উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এনসিটিবির নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত ব্যাকরণ বই, ওয়ার্কবুক ও সহায়ক বই শিশুদের পড়তে বাধ্য করার বিষয়টিও নোটিশে তুলে ধরা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রকাশনা সংস্থার যোগসাজশে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত বই এবং পাঠ্যসূচির বোঝা চাপানো হচ্ছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, এ ধরনের চাপের কারণে শিশুদের শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তাদের সৃজনশীল বিকাশও বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
শৈশব থেকেই মুখস্থনির্ভর শিক্ষায় শিশুদের আবদ্ধ না রেখে মুক্তচিন্তা, কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকাশের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নোটিশদাতার দাবি, অতিরিক্ত শিক্ষার চাপ সংবিধানের ১৭, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে প্রতিফলিত শিক্ষার সুযোগ, সমতা, আইনের আশ্রয়লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিসত্তার সুরক্ষার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স বন্ধ, প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা নিষিদ্ধ এবং এনসিটিবির অনুমোদিত বইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই চাপানো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশাপাশি নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা তদারক করতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে, নির্ধারিত পাঁচ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শিশুদের স্বার্থ রক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে।
পাঠকের মন্তব্য