![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়নি। সর্বশেষ বুথফেরত জরিপের সংশোধিত পূর্বাভাসে নেতানিয়াহুর জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৪৯। আরব দলগুলো পেতে পারে ১৯টি আসন। ফলে নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২ তাদের বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস হালনাগাদ করে এসব তথ্য জানিয়েছে। জরিপে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। যদিও নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ডানপন্থী জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ১৯৯৯ সালের পর দেশটিতে এটিই সর্বোচ্চ ভোটের হার। মঙ্গলবার বিপুলসংখ্যক ভোটার ভোট দিতে কেন্দ্রে যান। বিশেষ করে আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভোট দেওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। তাদের একটি লক্ষ্য ছিল নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থী জোট সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো।
ভোটের পর বিভিন্ন জরিপের পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর জোট ও তার ইহুদি প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আসনসংখ্যার ব্যবধান খুব বেশি নয়। এ অবস্থায় আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া কোনো পক্ষের পক্ষে সরকার গঠন কঠিন হতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এড়াতে নেতানিয়াহু ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন শিবিরের দলগুলোকে নিয়ে ঐক্য সরকার গঠনের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। তবে এ ধরনের সরকারে যোগ দিতে আইজেনকোট রাজি হবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তার সমর্থকদের বড় একটি অংশ নেতানিয়াহুকে তীব্রভাবে অপছন্দ করেন।
ঐক্য সরকার গঠিত হলেও এর নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে। নেতানিয়াহু সহজে ক্ষমতা ছাড়তে চাইবেন না। অন্যদিকে, আইজেনকোট আগেই জানিয়েছেন, ইসরায়েলের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য বলে তিনি মনে করেন না—এমন কারও নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেবেন না।
জেরুজালেমে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু দাবি করেন, তার লিকুদ পার্টিই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় দল। তিনি একটি ‘জাতীয় ডানপন্থী সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান।
নেতানিয়াহু বলেন, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল এক বা দুই দিনের মধ্যে জানা যাবে। তবে এরই মধ্যে দুটি বিষয় সামনে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য, ‘আমরা দেখেছি, লিকুদ পার্টিই সবচেয়ে বড় দল। আমাদের সঙ্গে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে না। দ্বিতীয় যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো ডানপন্থী জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। আর এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিরঙ্কুশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একটি জাতীয় ডানপন্থী সরকার গঠন করতে হবে।’ ইসরায়েলের অস্তিত্বের বিরোধী আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ওপর নির্ভর করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেতানিয়াহু বলেন, বিরোধী দলগুলোর ভালো ফলের পূর্বাভাস দিয়ে তার সমর্থকদের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে ভোট গণনা শুরু হয়েছে। সব ভোটকেন্দ্রের গণনা শেষ হওয়ার পর ‘ডাবল এনভেলপ’ নামে পরিচিত বিশেষ খামে থাকা ভোট গণনা করা হবে। এসব ভোট দিয়েছেন সেনাসদস্য, কূটনীতিক, চিকিৎসক ও নার্সদের মতো ব্যক্তিরা, যারা দায়িত্ব পালনের কারণে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন না। এ ধরনের খামের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ।
সাধারণত এসব ভোট নির্বাচনের ফলাফলে বড় পরিবর্তন আনে না। তবে বুথফেরত জরিপের সংশোধিত পূর্বাভাসে আসনসংখ্যার হিসাব বদলেছে।
সামগ্রিকভাবে ইহুদি-ইসরায়েলি ভোটারদের সমর্থন প্রায় সমানভাবে বিভক্ত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। রেকর্ডসংখ্যক ভোট পড়লেও কোনো জোট এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন পায়নি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে দলগুলোকে হয় প্রতিপক্ষ শিবিরের কোনো সদস্যকে নিজেদের পক্ষে আনতে হবে, নয়তো ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি দলগুলোর সমর্থন নিতে হবে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরবর্তী নেসেটে—ইসরায়েলের পার্লামেন্টে—এসব দলের আসনসংখ্যা ঐতিহাসিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ফলে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল এবং সরকার গঠনের সমীকরণ নির্ধারণে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য